‘খোদ পাক প্রধানমন্ত্রীই আমাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছেন’, হাসপাতালের বেডে শুয়েই বিস্ফোরক দাবী ইমরানের

গতকাল বরাত জোরে প্রাণে বেঁচেছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। গতকালের পদযাত্রায় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। তবে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় গুলি লাগে তাঁর পায়ে। প্রাণে বেঁচে যান তিনি।

এরপরই ইমরানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফের তরফে এক বিস্ফোরক বিবৃতি পেশ করা হয়। সেই বিবৃতিতে হাসপাতাল থেকে ইমরান দাবী করেছেন যে বর্তমান পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছেন।

এক বিবৃতিতে আসাদ উমর ও মিঁয়া আসলাম ইকবাল জানান, ”কিছুক্ষণ আগেই আমাদের ইমরান জানিয়েছেন তাঁর তরফে এই বিবৃতি পেশ করতে। তাঁর বিশ্বাস, তিনজন রয়েছেন এই হামলার পিছনে। তাঁরা হলেন শাহবাজ শরিফ, রানা সানাউল্লা ও মেজর জেনারেল ফইজল। ইমরান জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি এমন অভিযোগ করছেন”। বলে রাখি, সানাউল্লা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী ও ফইজল আইএসআইয়ের অন্যতম শীর্ষকর্তা। তাই তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনায় স্বাভাবিকভাবেই বেশ চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ইমরানের শারীরিক সুস্থতার বিষয়ে তাঁর অনুগামীরা জানান যে তাঁদের শীর্ষনেতা এখন বিপন্মুক্ত। এর সঙ্গেই তারা ঘোষণা করেন, “ইমরান সকলকে এটা জানিয়ে দিতে বলেছেন, দেশের স্বাধীনতার জন্য তিনি নিজের প্রাণ বলিদান দিতে প্রস্তুত”।

প্রসঙ্গত, গতকাল, বৃহস্পতিবার বিকেলে ‘রিয়েল ফ্রিডম’ পদযাত্রা করেন ইমরান খান। একটি হুড খোলা গাড়িতে ছিলেন প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী। সেই সময় একেবারে গাড়ির সামনে থেকেই তাঁকে লক্ষ্য করে এক রাউণ্ড গুলি ছোঁড়ে এক বন্দুকবাজ। তার ঠিক পিছনেই ছিলেন এক যুবক। সে ওই দুষ্কৃতীর হাত টেনে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিলে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে গুলি লাগে ইমরানের পায়ে। সঙ্গে সঙ্গে ওই দুষ্কৃতী বন্দুক ফেলে দৌড় লাগায়। তার পিছনে ছোটেন ওই যুবকও।

ইমরানের ওই অনুগামীই আততায়ীকে পাকড়াও করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তাঁর এই দুঃসাহসিকতায় পাকিস্তান জুড়ে প্রশংসার ঝড় এখন। সেই অনুগামীর কথায়, “প্রথমবার গুলি চালানোর পরই আততায়ীকে আমি দেখতে পেয়ে গেছিলাম। পরের বার গুলি ছোঁড়ার আগেই ওকে ধাক্কা দিই। সঙ্গে সঙ্গে বন্দুক ফেলে ও ছুটতে শুরু করে”। তিনি আরও বলেন, “খান সাহেব, যতদিন বেঁচে আছি, গায়ে আঁচ আসতে দেব না”।

RELATED Articles