ছেলে একটু অন্যরকম ছিল। একে অবিবাহিত তার ওপর আবার ফিল্ম পরিচালক। তাই তথাকথিত সাধারণ মানুষের থেকে তার হাবভাব একটু আলাদা ছিল। তাঁর সামনে নিজেদেরকে নিরাপদ অনুভব করতেন না বাবা-মা। আর তাই খুনের সিদ্ধান্ত।
ঘটনাটি ঘটেছে ইরানের তেহরানে। ফিল্ম পরিচালককে খুন করে আবর্জনার থলিতে ভরে ফেলে দেওয়া হয় দেহ। পরিচালক বাবাক খোররামদিনের খুনের দায় ইতিমধ্যেই স্বীকার করেছেন তাঁর মা-বাবা। তাঁদের দাবি, ছেলে অবিবাহিত থাকায় সমাজে দুর্নাম হচ্ছিল। তাই হত্যার সিদ্ধান্ত। ঘটনাটি ঘটেছে ইরানের তেহরানে।
৪৭ বছর বয়স হয়েছিল পরিচালক বাবাক খোররামদিনের। ক্রেভাইস’ ও ‘ওথ টু ইশার’-র মতো স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি পরিচালনা করেছেন নিজের বাবা-মার হাতেই খুন হয়ে যাওয়া এই পরিচালক। ২০০৯ সালে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিনেমায় মাস্টার ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
বাবাকের দেহ উদ্ধার হয়েছে পশ্চিম তেহরানের একবাতান নামের একটি শহর থেকে। দেহটি আবর্জনার একটি ব্যাগে মুড়ে ফেলা হয়েছিল। খুনে নাম জড়িয়েছে স্বয়ং বাবা-মার। তদন্তে নেমে পুলিশ জেনেছে সম্মানরক্ষার্থে এই খুন করা হয়েছে। পরিচালকের বাবা-মাকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তেহরান আদালতের বিচারপতি মহম্মদ শাহরিয়ারি জানিয়েছেন, বাবাকের বাবা দোষ কবুল করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ছেলেকে অজ্ঞান করার ওষুধ খাইয়ে খুন করার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে দেহ কেটে থলিতে পুরেছেন তাঁরা।
🎥 پدر #بابک_خرمدین: از هیچ کدام از قتلهایی که کردم عذاب وجدان ندارم!
کابوسی به سراغم نمیآمد چون احساس گناهی نمیکردم
کسانی که کُشتم فساد اخلاقی بالایی داشتند pic.twitter.com/bV0wMLgVYI
— خبرگزاری تسنیم 🇮🇷 (@Tasnimnews_Fa) May 19, 2021
কিন্তু নিজের সন্তানকে কেনও এইরকম নিষ্ঠুর ভাবে খুন করল দম্পতি?
নিহত বাবাকের বাবা জানিয়েছেন,”আমাদের ছেলে অবিবাহিত। আমাদের বিরক্ত করত। একদিনও আমরা নিরাপদ অনুভব করতাম না। যা ইচ্ছা তাই করত। ওঁর মা ও আমি মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম, সমাজে আর সম্মান হারাব না।”
তবে নিজের ছেলেকে খুন করে এতোটুকু অনুতপ্ত নন বাবাকের বাবা-মা। এই ঘটনায় তাঁর কোনও আক্ষেপ নেই বলেও দাবি করেছেন ওই খুনী পিতা।





