নেপালে রাজতন্ত্রের অবসান হয়েছে ২০০৮ সালে, যখন ২৪০ বছরের পুরনো সাম্রাজ্যিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশটিকে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এক দশকের বেশি সময় পার হলেও একাংশের মনে রয়ে গেছে রাজতন্ত্রের প্রতি আনুগত্য। নানা সময়ে আন্দোলন হলেও এবারের পরিস্থিতি তুলনামূলক বেশি ভয়াবহ। দেশজুড়ে অর্থনৈতিক সংকট, দুর্নীতি ও শাসনব্যবস্থার প্রতি অসন্তোষ থেকেই নেপালের একাংশের মানুষ আবার রাজতন্ত্র ফেরানোর দাবি তুলছে।
সাধারণ মানুষের অভিযোগ, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত, প্রশাসনিক ব্যর্থতায় দেশ জর্জরিত। তাদের মতে, রাজতন্ত্র থাকলে নেপাল আবার স্থিতিশীল হতে পারত। অন্যদিকে, গণতন্ত্রপন্থীদের বক্তব্য, রাজতন্ত্র কখনই সঠিক সমাধান নয়, বরং গণতন্ত্রের মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই নেপালের রাজপথে ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা।
রাজপথে বিক্ষোভ, কাঠমান্ডুতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ
শুক্রবার কাঠমান্ডুর বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে মিছিল করেন। তাদের হাতে ছিল নেপালের জাতীয় পতাকা ও প্রাক্তন রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহের ছবি। স্লোগান উঠতে থাকে— “দেশকে বাঁচাতে রাজা ফিরে আসুন”, “দুর্নীতিবাজ সরকারের পতন হোক”। প্রথম দিকে শান্তিপূর্ণ মিছিল থাকলেও, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। উভয় পক্ষের মধ্যে শুরু হয় পাথর নিক্ষেপ, কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানো হয়, এমনকি গুলি চালানোর অভিযোগও ওঠে।
সংঘর্ষে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে, সেনা মোতায়েন
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের মধ্যে পুলিশের গুলিতে এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে, আর আগুনে পুড়ে মারা গেছেন এক সাংবাদিক। আহত হয়েছেন বহু মানুষ, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই নিরাপত্তারক্ষী ও বিক্ষোভকারী।
আরও পড়ুনঃ ধর্মীয় সংঘর্ষে দোকানপাট ভাঙচুর, গ্রেফতার ৩৪!
নেপাল প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন এলাকায় সেনা মোতায়েন করেছে। গৌশালা, বানেশ্বর চক, তিনকুনে, কোটেশ্বর-সহ বিভিন্ন জায়গায় কার্ফু জারি করা হয়েছে। শুরুতে রাত ১০টা পর্যন্ত কার্ফু জারি থাকলেও, পরে তা সকাল ৭টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এ পর্যন্ত ১০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।
নেপালের ভবিষ্যৎ কোন পথে?
নেপালের বর্তমান সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে বিশ্লেষকদের মতে, জনগণের এই ক্ষোভ যদি সামলানো না যায়, তাহলে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতি নেপালের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।






