দেশজুড়ে সম্প্রদায়গত উত্তেজনার ঘটনা নতুন কিছু নয়। মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব বা সামাজিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বাধে, যা মুহূর্তের মধ্যে বড় আকার ধারণ করে। সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়, ক্ষতির মুখে পড়েন ব্যবসায়ীরা। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও, ঘটনার অভিঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়। সম্প্রতি মালদার মোথাবাড়িতে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষ সেই বাস্তবতাকে ফের সামনে এনে দিল।
সপ্তাহের মাঝামাঝি এক সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মোথাবাড়ি। রাস্তার মোড়ে জমায়েত হওয়া কয়েকজন বচসায় জড়িয়ে পড়েন, যা দ্রুত হিংসাত্মক আকার ধারণ করে। দোকানপাটে হামলা, যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। বহু ব্যবসায়ী দোকানের শাটার নামিয়ে পালিয়ে যান, পথচারীরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ করেন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে, প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাধ্য হয় কঠোর পদক্ষেপ নিতে।
সূত্রের খবর, মসজিদের সামনে বাজি ফাটানো নিয়ে শুরু হয় বিবাদ। প্রথমে কিছু মানুষ প্রতিবাদ জানালে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এরপর পরিস্থিতি এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে যে কয়েকশো মানুষ রাস্তায় নেমে পড়েন। একে অপরের দিকে ইটবৃষ্টি, লাঠি হাতে আক্রমণ, দোকানপাট ও যানবাহনে ভাঙচুর—এক মুহূর্তে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ বেগ পেতে হয়। অবশেষে লাঠিচার্জ করে জমায়েত সরানোর চেষ্টা করা হয়।
এই সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ৩৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এলাকায় শান্তি ফেরাতে রাতভর টহল দিয়েছে সশস্ত্র বাহিনী। পরিস্থিতি যাতে নতুন করে উত্তপ্ত না হয়, সেই কারণে সাময়িকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, কলকাতা হাইকোর্ট এই হিংসার তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ৩ এপ্রিলের মধ্যে আদালতে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বিদ্যালয় না পুলিশ ক্যাম্প? পড়ুয়ারা উধাও, রান্নাঘরে বসেই চলছে ক্লাস!
এদিকে, স্থানীয় বিধায়ক ও প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বলেছেন, “আমরা ইতিমধ্যেই সব সম্প্রদায়কে নিয়ে শান্তি বৈঠক করেছি। প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে। খুব শীঘ্রই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।” তবে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, পরিকল্পিতভাবে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। যদিও শাসকদল এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। আপাতত পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে নজর থাকছে সকলের।





