রূপকথাকেও হার মানাবে এই ঘটনা। সমস্ত বিশ্ব জানে তিনি মৃত। কিন্তু আদতে তা নয়, মরেন নি রুকুন্দ। নিজের পারলৌকিক ক্রিয়ার দিনই ফিরে এলেন। তাঁকে দেখে যেন মাথা ঘুরছিল তাঁর স্বামীর। স্বামীর জেলে ঘানি টানার ব্যবস্থা করলেন রুকুন্দ।
একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ে করেন নোয়েলা রুকুন্দ ও কালালা। কিন্তু কালালার সন্দেহ জাগছিল মনে আর সেই সন্দেহের বশেই খুন করানোর চেষ্টা করেন নিজের স্ত্রীকে। কিন্তু সেই ভাড়া করা গুণ্ডারাই আবার নতুন জীবন দেয় রুকুন্দকে।
প্রায় ১৭ বছর আগে কালালার সঙ্গে আলাপ রুকুন্দর। রুকুন্দ এবং কালালা দু’জনেই শরণার্থী ছিলেন। পূর্ব আফ্রিকার বুরুন্ডি থেকে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছিলেন রুকুন্দ। কালালা মধ্য আফ্রিকার কঙ্গো থেকে। শরণার্থী শিবিরেই দু’জনের পরিচয়। কালালা ইংরেজি জানতেন। কিন্তু রুকুন্দ ইংরেজি একেবারেই জানতেন না। রুকুন্দর হয়ে দোভাষীর কাজ করে দিতেন কালালা। ক্রমে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। দু’জনের প্রেম হয় এবং শেষে বিয়েও করেন। বিয়ের পর তাঁরা অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে সংসার পেতেছিলেন।
রুকুন্দের আগের পক্ষের চার সন্তানকেও মেনে নেন কালালা। সবই ঠিক চলছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কালালার মনে রুকুন্দের জন্য সন্দেহ তৈরি হতে থাকে। কালালার মনে হত, রুকুন্দ অন্য পুরুষের সঙ্গে প্রেম করছেন। তাঁকে ছেড়ে হয়ত রুকুন্দ চলে যাবেন। এই নিয়ে আশঙ্কায় ভুগতেন কালালা। আর এর জন্যই ধীরে ধীরে রুকুন্দের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা শুরু করেন। কিন্তু এদিকে, নিজের এই আশঙ্কার কথা কোনওদিন রুকুন্দকে খুলে বলেনও নি কালালা।
সালটা ২০১৫। মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে বুরুন্ডি যান রুকুন্দ। স্বামী কালালাও তাঁর সঙ্গে গিয়েছিলেন। বুরুন্ডির একটি হোটেলে উঠেছিলেন দু’জনে। মানসিক ভাবে বেশ ক্লান্ত ছিলেন রুকুন্দ। তাঁর স্বামী তাঁকে কিছুক্ষণ বাইরের তাজা হাওয়ায় হেঁটে আসতে বলেন। কিন্তু রুকুন্দ জানতেন না বাইরে তাঁর জন্য স্বামীর ভাড়া করা গুন্ডা বন্দুক নিয়ে অপেক্ষা করছে। হোটেল থেকে কিছু দূর যেতেই বন্দুক দেখিয়ে তাঁকে অপহরণ করে নেন তাঁরা। তারপর চোখে কাপড় বেঁধে একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বেঁধে রাখেন।
এরপরও বিস্ময় বাকী ছিল। রুকুন্দ জানতে পারেন, ওই লোকগুলি তাঁর ভাইয়ের পরিচিত। তারাই তাঁকে জানান যে কালালা তাঁকে খুনের জন্য সুপারি দিয়েছেন। রুকুন্দের ভাইয়ের পরিচিত হওয়ায় তারা রুকুন্দকে প্রানে মারেন নি। এরপর তারা রুকুন্দকে একটি ফাঁকা জায়গায় ছেড়ে দেন। ওইদিন থেকেই রুকুন্দ হয়ে যান সকলের কাছে মৃত।
এরপর অনেক চেষ্টায় বুরুন্ডি থেকে মেলবার্নে পৌঁছন রুকুন্দ। ভাগ্যের পরিহাস, যেদিন তিনি বাড়ি ফেরেন, সেদিন সেখানে তাঁর পারলৌকিক ক্রিয়া করছিলেন কালালা। বাইরে গাড়িতে বসে অপেক্ষা করেন তিনি। নিমন্ত্রিতরা চলে যাওয়ার পর স্বামীর মুখোমুখি এসে দাঁড়ান রুকুন্দ।
রুকুন্দকে দেখে ভূতের মতোই মনে হয়েছিল কালালার। তবে ভুল ভাঙে তাঁর। আর এরপরই কেঁদে নিজের ভুল স্বীকার করেন তিনি। কিন্তু তাঁকে আর কোনও সুযোগ দিতে চান নি রকুন্দ। প্রমাণ-সহ সব ঘটনা পুলিশকে জানান রুকুন্দ। আর কালালাও নিজের দোষ স্বীকার করেন। পুলিশের জেরায় পরে রুকুন্দ জানতে পারেন, কেন তাঁর স্বামী তাঁকে খুন করতে চেয়েছিল। আপাতত, সন্তানদের নিয়ে একাই থাকেন রুকুন্দ।a





