ঋষি কাপুরের আদি বাড়ি রক্ষার প্রতিশ্রুতি রাখতে পারল না পাক সরকার

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ৩০শে এপ্রিল মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন ভারতীয় সিনেমার সনামধন্য অভিনেতা ঋষি কাপুর। বেশ কিছুদিন ক্যান্সারে ভুগে গত বৃহস্পতিবার মারা গিয়েছেন কপূর পরিবারের সদস্য এই জনপ্রিয় অভিনেতা। তার মৃত্যুতে শোক পালন করেছেন ভারত ছাড়াও পাকিস্তান রাষ্ট্র।ঘটনাচক্রে ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বিরাট ভূমিকা পালন করা এই পরিবারের শিকড় ওয়াঘার ওপারে, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের পেশোয়ারের কিসা খাওয়ানি বাজারে। সেখানে তাদের আদি ভিটের নামই ছিল ‘কপূর হাভেলি’। দেশভাগের জেরে তারা সবাই এপারে চলে আসেন। ঋষি ইমরান সরকারকে ২০১৮-তে অনুরোধ করেন বাড়িটিকে সংরক্ষণ করার জন্য। কিন্তু আর্থিক সঙ্কটে পড়ে প্রয়াত অভিনেতার পৈত্রিক ভিটেকে সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি পালন করতে পারল না ইমরান খান সরকার।

১৯৯০ সালে ভাই রণধীর কপূরকে একবার নিয়ে বাপ-ঠাকুরদার আদি ভিটে দেখতে গিয়েছিলেন ঋষি। ওখানেই একসময় জন্মেছিলেন দাদু পৃথ্বীরাজ কাপুর, বাবা রাজ কপূর। পৃথ্বীরাজ কাপুরের বাবা বসেওয়ারনাথ কপূরের আমলে এই বসত বাড়িটির নির্মাণ হয়েছিল। বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি ‘কাপুর হাভেলি’-কে পাক সরকার সংগ্রহশালা বানাবার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন। এরপর ২০১৮-র জুলাইয়ে ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টি ক্ষমতায় আসার পরও তাদের সরকার ‘কপূর হাভেলি’-কে সংগ্রহশালার মর্যাদা দেবে বলে কথা দেন পাক মন্ত্রী শাহরিয়ার আফ্রিদিও। কিন্তু ২০১৮ থেকে ২০২০, প্রায় ২ বছর কেটে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি আজও অপূর্ন রয়ে গেছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার হেরিটেজ দপ্তরের সূত্র জানিয়েছে, তারা একটি সামগ্রিক প্ল্যানও বানিয়েছিল, যাতে ঠিক হয়, ওই বাড়ির সামনের দিকটা অক্ষত রেখে ভিতরের অংশগুলি সংস্কার করা হবে। কিন্তু টাকার ব্যবস্থা না হওয়ায় সেই পরিকল্পনা থমকে যায়।

বর্তমানে ওই বাড়ি একজনের নিজস্ব সম্পত্তি। অতীতে বাড়ির মালিক তিন-চারবার বাড়িটি তিনি ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেন, কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে হেরিটেজ দপ্তর এফআইআর দায়ের করায় তাঁকে পিছু হটতে হয়েছে। তিনি সরকারকে ভরসা দিয়েছেন, বাড়িটি তিনি ভাঙবেন না। কিন্তু মাঝেমধ্যেই ঝড়বৃষ্টি, ভূমিকম্পের জেরে বাড়ির ভিতরের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল ধরেছে।

বৃহস্পতিবার ঋষি কাপুরের প্রয়াণের খবরে পেশোয়ারেও শোকের ছায়া নেমেছে। ঋষিকে কোনওদিন চাক্ষুষ না দেখলেও তাঁর নাম সবাই শুনেছেন। এদিকে তাঁকে স্মরণ করতে সবাই সেই বাড়িতে জড়ো হন। পারভেজ আহমেদ নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ঋষি কপূরের সঙ্গে কোনও সম্পর্কই নেই আমাদের, তবু ছোটবেলা থেকে নায়ক হিসাবে ওঁর অনেক সিনেমাই দেখেছি। আর যেখানে আমারও জন্ম, সেই জায়গার সঙ্গে ওঁনারও জন্মসূত্রের সম্পর্ক জানতে পেরেই মনটা ভালো হয়ে যায়। তাই সেই ভালোলাগা থেকে আমার কষ্ট লেগেছে। স্থানীয় ইতিহাসবিদ ইব্রাহিম জিয়া বললেন, ঋষির মৃত্যুতে পারভেজের এই অনুভব পেশোয়ারের বাকি মানুষদেরও অনুভূত করেছে।

RELATED Articles

Leave a Comment