‘র‍্যাপিড টেস্ট কিটে কোনও সমস্যা নেই, দোষ ভারতের’, অভিযোগ অস্বীকার চীনা সংস্থার

এবার দোষারোপের লড়াই শুরু হল ভারত ও চীনের মধ্যে। করোনা ভাইরাস শনাক্ত করার জন্য চীন থেকে যে কিট আনা হয়েছে তা খারাপ বলে দাবি করেছিল ভারত। এদিকে চীন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, চীনা টেস্ট কিটে কোনও সমস্যা নেই। যদি সমস্যা থেকেই থাকে তাহলে তা রয়েছে ভারতীয়দের ব্যবহারের পদ্ধতিতে।

এ পর্যন্ত চীনা টেস্ট কিটের গুণগত মান নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে দেশে। বারংবার প্রশ্ন করা হয়েছে চীনা টেস্ট কিটের গুণমান নিয়ে। কিন্তু চীন সেই সকল অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে টেস্ট কিট বিফল হওয়ার সমস্ত দায় চাপাল ভারতের উপরেই।

ভারতের করোনা আক্রান্তদের পরীক্ষা করতে চীনের দুটি সংস্থার থেকে পাঁচ লক্ষ টেস্ট কিট আমদানি করা হয়। ওন্ডফো বায়োটেক (Wondfo Biotech ) ও লিভজোন ডায়াগনোস্টিক্স (Livzon Diagnostics) থেকে এই কিটগুলি নেওয়া হয়। এই কিটগুলি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয় করোনা আক্রান্তদের চিহ্নিত করার জন্য। রাজস্থান ও পশ্চিমবঙ্গ থেকেই এই টেস্ট কিটের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় ও জানানো হয় পরীক্ষায় সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

এরপর আইসিএমআর-এর (ICMR) তরফ থেকে প্রথমে র‍্যাপিড টেস্ট কিট ব্যবহারে নিষেধ করা হয়। পরে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় র‍্যাপিড টেস্ট কিট ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এটাও ঠিক হয়, কঠোরভাবে পরীক্ষা চালানোর সময় এই টেস্ট কিট ব্যবহার করতে হবে, যদি সঠিক ফল না প্রকাশ হয় তাহলে সংস্থাগুলির কাছে অভিযোগ জানানো হবে। প্রয়োজনে তাদের কাছে ভাল কিট পাঠানোর দাবি জানান হবে। 

বিগত কয়েকদিন ধরে করোনার র‍্যাপিড টেস্ট কিটের গুণগত মান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। জবাবে এই দুই চীনা সংস্থা দাবি করে যে কিটের গুণগত মান সঠিক। তবে ভারতীয়দের ব্যবহার পদ্ধতি ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় সঠিক ফল পাওয়া যায়নি। এই প্রস্তুতকারী সংস্থাদুটি ভারতীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের পদ্ধতি দেখে ব্যবহার করার পরামর্শ দেন।

যদিও ভারতের বিশেষজ্ঞদের মতে, “বিশ্বব্যাপী এই টেস্ট কিট ব্যবহারের জন্য পাঠানোর আগে চীনা সংস্থাগুলি সঠিকভাবে তা পরীক্ষা করে দেখেনি। কারণ করোনার সংক্রমণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারেও টেস্ট কিটের চাহিদা বাড়তে থাকায় এই সংস্থা দুটি খুব কমই মানুষের উপরে র‍্যাপিড টেস্ট কিট ব্যবহার করেছেন।” 

টেস্ট কিটের গুণগত মান নিয়ে প্রস্ন ওঠায় মঙ্গল ও বুধবার এই দুদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ হর্ষবর্ধন এই কিট ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ও খারাপ কিটের পরিবর্তে ভাল কিট আনার ব্যবস্থা করেন।  যদিও সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে গিয়েছে। অন্যদিকে আইসিএমআরের গাইডলাইন অনুযায়ী, করোনা উপসর্গ প্রবল থাকলে আরটি-পিসিআর (RT-PCR) টেস্ট কিট ব্যবহার করা যাবে।

আরও অন্যান্য খবর