হেনস্থা করেছে প্রশাসন, অপমানে প্রকাশ্যে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মঘাতী সাংবাদিক!

বিনা কারণে বাড়িতে ঢুকে খানাতল্লাশি চালিয়েছিল পুলিশ। অপরাধ, সরকারবিরোধী খবর করেছিলেন ওই সাংবাদিক। এই অপমান মেনে নিতে পারেননি এই মহিলা সাংবাদিক তাই প্রতিবাদে রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের একটি অফিসের সামনে নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে আত্মঘাতী হলেন ইরিনা স্লাভিনা নামে ওই মহিলা সাংবাদিক! গোটা ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য।

গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয় সংবাদমাধ্যমকে। সরকারবিরোধী কোনো খবর করলে তাদেরকে কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হয়। গোটা বিশ্ব জুড়েই এই হীন কাজ করে থাকে বিভিন্ন দেশের সরকার। ব্যতিক্রম নয় রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন সরকারও। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে মস্কো থেকে ৪০০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত নিঝনেই নোভগোরোদ শহরে।

স্থানীয় সূত্র মারফত জানা গিয়েছে এই শহরে কোঝা প্রেস নামে একটি স্থানীয় নিউজ পোর্টালের চিফ এডিটর হিসাবে কাজ করতেন ইরিনা।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা বেলায় তিনি ফেসবুকে পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ’গণতন্ত্রে বিশ্বাস রাখা একটি সংগঠনের লিফলেট ও অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত কাগজ খোঁজার নাম করে তাঁর বাড়িতে আচমকা ১২ জন লোক ঢুকে পড়েছে। পুরো বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তাঁর কম্পিউটার ও নথিপথ বাজেয়াপ্ত করে। এমনকী তাঁর নোটবুকগুলি, সমস্ত ইলেকট্রনিক্স জিনিস, মেয়ের ল্যাপটপ ও স্বামীর মোবাইল নিয়ে চলে যায়।’

তিনি মৃত্যুর আগে ফেসবুকে বলে যান, “আমার মৃত্যুর জন্য আমি আপনাদের রাশিয়ান ফেডারেশনকে দায়ী করতে বলছি।” এরপর শুক্রবার ওই শহরে রাশিয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে দেন ইরিনা। তাকি বারংবার বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি নিজের জেদে অনড় ছিলেন তাই কোনভাবেই তাঁকে বাঁচানো যায়নি।

irina slavina

যদিও পুলিশের বক্তব্য, এই সাংবাদিকের বাড়ি কোন তল্লাশি চালানো হয়নি এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকায় কোনো মামলাও হয়নি। শুধু একটি মামলার বিষয়ে তাঁর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু যেভাবে এই সাংবাদিক গায়ে আগুন লাগিয়ে প্রকাশ্যে আত্মঘাতী হলেন তাতে প্রশ্ন উঠছে রাশিয়ার সরকার কি ঠিক কাজ করল? তবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অনেক অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে তাই এক্ষেত্রে ইরিনার মৃত্যুর জন্য অনেকেই রাশিয়া সরকারকেই দায়ী করছেন।

RELATED Articles

Leave a Comment