বিশ্বের মধ্যে চীনেই প্রথম এসে পড়েছিল করোনাভাইরাসের থাবা। আর এই অজানা মারণ ভাইরাসের ব্যাপারে প্রথমে সন্দেহও হয় চিনের উহান শহরের অভিজ্ঞ মহিলা চিকিৎসক ঝাং জিশিয়ানের। ৫৪ বছরের এই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সেদিন খটকা লেগেছিল প্রথম। যেদিন একই রকম উপসর্গ নিয়ে চার জন রোগী এসেছিলেন তাঁর কাছে। যাদের মধ্যে তিন জন একই পরিবারের সদস্য। তেমন কোনও বিশেষ কারণ ছাড়াই অদ্ভুত রকমের ঠান্ডা লাগিয়েছেন সকলে। জ্বর, কাশি, হাল্কা শ্বাসকষ্ট – একই রকম উপসর্গ। বুকের এক্স-রে করার পরে সবাইকে অবাক করে দিয়ে রিপোর্টে দেখা যায় নিউমোনিয়ার সংক্রমণ ছড়িয়েছে চার জনের ফুসফুসেই।
পরের দিন আবারও ঠিক একই রকম উপসর্গ নিয়ে আরও তিন জন আসেন ঝাং-এর কাছে। তখন তিনি একপ্রকার নিশ্চিত হন, এই একই রকম সংক্রমণ নিয়ে পরপর এত রোগীর অসুস্থ হওয়া হয়তো নিছক কাকতালীয় নয়। বিশেষ করে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের একই সংক্রমণ দেখে তিনি নিশ্চিত হন, এটা ছোঁয়াচে অসুখ।
একটি সাক্ষাৎকারে এই মহিলা চিকিৎসক বলেন, “সাধারণত, পরিবারের কারও অসুখ হলে, তাঁকে অন্য সদস্যরা নিয়ে আসেন। কিন্তু আমায় অবাক করেছিল, একই পরিবারের তিন জন সদস্য এসেছেন, তিন জনই একেবারে একই সংক্রমণে আক্রান্ত! ছোঁয়াচে অসুখ না হলে এমনটা হওয়ার কথা নয়। অথচ সাধারণ জ্বর বা নিউমোনিয়া কোনওটাই ছোঁয়াচে নয়।”
পরে ওই প্রথম দুদিনে আসা সাত রোগীর ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে জানা যায় তাদের আরও একটা কমন ফ্যাক্টর। ওই সাত জন নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীর মধ্যে চার জনেরই হুনান সি-ফুড বাজারে নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে।
চিকিৎসক ঝাং-এর কথায়, “আমি বুঝতে পারছিলাম কতটা ভয়াবহ হতে চলেছে এই অসুখ। মাত্র কয়েক দিনেই হু হু করে বাড়ছিল রোগীর সংখ্যা। আমরা ‘এন৯৫’ মাস্ক পরে রোগীদের সংস্পর্শে আসতে শুরু করি। সাধারণ মাস্ক নিরাপদ নয়। ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ থেকে আলাদা পোশাকও পরতে শুরু করি। তত দিনে মৃত্যু হতে শুরু করেছে উহানের বেশ কয়েক জনের। আমার সার্স অসুখটার কথা মনে পড়ছিল। সেবারও আমাদের বুঝতে সময় লেগে গেছিল, কতটা মারাত্মক হতে পারে এই অসুখ। এবার তার একটু আগে বুঝতে পেরেছি।”
বর্তমানে প্রশাসনের তরফে অবরুদ্ধ করা হয়েছে গোটা উহান শহরকে। সেইসঙ্গে চিনের আরও ১৮টি শহর অবরুদ্ধ করেছে প্রশাসন। গ্লোবাল হেল্থ এমার্জেন্সি ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। বিশ্বের একাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাসের সংক্রমণ। এই অবস্থায় চিকিৎসক মহল সহ বিশ্ববাসী কুর্নিশ জানাচ্ছেন ঝাং জিশিয়ানকে। আমরাও আজ আন্তর্জাতিক নারীদিবসে খবর ২৪x৭-এর পুরো টিমের তরফে সম্মান জানাচ্ছি এই মহিলা চিকিৎসককে। কারণ তিনি যদি প্রথমেই এই সংক্রমণকে বিশেষ ভাবে চিহ্নিত না করতেন, সতর্ক না হতেন, তাহলে হয়তো আরও প্রচুর রোগীর মধ্যে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ত।





