প্রচলিত রয়েছে, দ্য শো মাস্ট গো অন। এই প্রবাদ বাক্য নানান শিল্পীদের ক্ষেত্রে একটি বেশি যেন প্রযোজ্য। অন্তত আফগান টিকটক কমেডিয়ান নজর মহম্মদ ওরফে খাসা জওয়ানকে দেখে তেমনটাই ধারণা জন্মেছে বিশ্ববাসীর। তালিবানদের বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়েও যিনি সমানে নির্ভয়ে নানান জোক আওড়ে গিয়েছেন।
এই আফগান কমেডিয়ানকে বাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে এনে গাড়িতে তোলা হয়। বসানো হয় দুই তালিবান সদস্যের মাঝে। মেশিন গান তাক করে রাখা হয়েছিল তাঁর দিকে। কিন্তু তবুও কোনওরকমের কোনও ভয় না পেয়ে নাগাড়ে তালিবান সদস্যদের নকল করে যাচ্ছিলেন নজর মহম্মদ।
জুলাই মাসেই আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশ দখল করে নেয় তালিবানরা। সেই সময় কমেডিয়ান নজর মহম্মদকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে গিয়ে খুন করে তালিবানরা। নজর মহম্মদ আফগানিস্তানে প্রধানত টিকটকের তারকা কমেডিয়ান বলেই পরিচিত ছিলেন।
তালিবানদের হাতে বন্দি হওয়ার পরও নজর একইরকম ভাবে নাচ-গানের মধ্যে দিয়ে তালিবানদের আনন্দ দিয়ে গিয়েছেন। তাঁর জীবনের শেষ ভিডিওতে তাঁকে তালিবানদের মাঝে বসে বন্দুকের নলের সাম্ন্বে জোক বলতেও শোনা যায়। এই ভিডিওতে এও দেখা যায়, বিরক্ত হয়ে এক তালিবান তাঁকে চড় মেরে যাচ্ছেন।
এই ভিডিওতে ধরা পড়ে তালিবানি বর্বরতার ছবি। কমেডিয়ানকে গাছে বেঁধে মারধর, অত্যাচারের ছবি ধরা পড়ে ভিডিওতে। মৃত্যুর পর তাঁর গলাতে গভীর ক্ষত দেখতে পাওয়া যায়। ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসার পরও কমেডিয়ানের মৃত্যুর দায় নিতে অস্বীকার করে তালিবান। এমনকী, এই কট্টরপন্থী সংগঠন দাবী করে যে ভিডিওতে থাকা বন্দুক হাতে দুই ব্যক্তিও তালিবান সদস্য নয়। এই ঘটনার পর তালিবানের ত্রে জানানো হয় যে আইন মোতাবেক আততায়ীদের শাস্তি দেওয়া হবে।
বলে রাখি, নজর মহম্মদ টিকটক তারকা হওয়ার আগে আফগান পুলিশে কাজ করতেন। তাঁর একাধিক ভিডিওতে তাঁকে তালিবানদের নকল করে নানান জোক বলতে শোনা গিয়েছে। আফগানিস্তানে বর্তমানে সকল মানুষই তালিবানদের আতঙ্কে দিনযাপন করছেন।





