এসএসকে ও এসএসএস্কে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার নানান সুযোগ-সুবিধা চালু করেছে। কিন্তু এরপরও যারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, “তারা শিক্ষক-শিক্ষিকা নন, তারা বিজেপি ক্যাডার”। গতকাল পাঁচ শিক্ষিকার বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা প্রসঙ্গে এমন মন্তব্যই করলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।
অন্যায়ভাবে বদলি করা হচ্ছে, এই অভিযোগে গতকাল, মঙ্গলবার বিকাশ ভবনের সামনেই বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন পাঁচ শিক্ষিকা। এঁরা সকলেই শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চের সদস্য বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন- মুখেই তরুণদের ডাক, এদিকে যুবদের সংখ্যা ৯%-এরও কম, এখনও সিপিএমের হাড়ে-মজ্জায় জড়িয়ে বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাই
এর আগেও নানান দাবীতে তারা আন্দোলন করেছেন। কখনও মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে তো কোথাও আবার নবান্নের সামনে। এর জেরে গ্রেফতারও হয়েছে তারা। জানা গিয়েছে, এরপরই নাকি ওই পাঁচজন শিক্ষিকা সহ মোট ১৬ জনকে উত্তরবঙ্গে বদলি করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই বদলির নির্দেশের বিরোধিতা করে গতকাল বিক্ষোভ দেখান শিক্ষিকারা। প্রতিবাদের জেরে বিষ পান করেন পাঁচ শিক্ষিকা। এদের মধ্যে তিনজন আরজি কর হাসপাতাল ও দু’জন এনআরএস হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বলে খবর। তিনজনকে আইসিইউতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
এই পরিস্থিতিতে এবার আজ, বুধবার এই বিষয় নিয়ে মুখ খোলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। বাম সরকারকে তীব্র তোপ দাগেন তিনি। বলেন, ‘”বাম সরকারের আমলে পঞ্চায়েত এবং গ্রামোন্নয়ন বিভাগের অধীনে এসএসকে এবং এমএসকের সহায়ক/সহায়িকা, সাম্প্রসারক/সম্প্রসারিকারা নামমাত্র সাম্মানিকের বিনিময়ে কাজ করতেন। কাজের নিশ্চয়তা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং অবসরকালীন সুযোগসুবিধা বলে কিছু ছিল না”।
এরই সঙ্গে তৃণমূল সরকারের আমলে এসএসকে এবং এমএসকে শিক্ষকদের জন্য কী কী সুবিধা প্রদান করা হয়েছে, তা-ও তুলে ধরেন ব্রাত্য। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গত বছর ১ ডিসেম্বর থেকে তৃণমূল সরকার এসএসকে এবং এমএসকে পদগুলিকে বিদ্যালয়শিক্ষা বিভাগের অধীনে এনে একটি সুসংবদ্ধ রূপ দিয়েছে। সহায়ক/সহায়িকাদের সাম্মানিক বাড়িয়ে মাসিক ১০,৩৪০ টাকা এবং সম্প্রসারক/সম্প্রসারিকাদের সাম্মানিক বাড়িয়ে ১৩,৩৯০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়াও বাৎসরিক তিন শতাংশ ইনক্রিমেন্ট চালু করা হয়েছে। প্রত্যেককে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের অধীনে নিয়ে আসা হয়েছে। যাঁরা ৬০ বছরে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন, অবসরের সময়ে তাঁদের প্রত্যেকের জন্য তিন লাখ টাকার এককালীন অবসর-ভাতা চালু করা হয়েছে। বাকীদের জন্যও এই সুবিধা দানের বিষয়ে অর্থ দফতরের সঙ্গে ফাইলের আদান-প্রদান চলছে। ৬০ বছরে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত যাঁরা জানিয়েছেন, তাঁদের জন্য চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রভিডেন্ট ফান্ড চালু করা হয়েছে। মহিলাদের জন্য সরকারি নিয়মানুযায়ী মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও প্রত্যেককের জন্য চিকিৎসা-সংক্রান্ত সহ বাৎসরিক ১৮ দিন ক্যাজুয়াল লিভ বা ছুটির অধিকার দেওয়া হয়েছে”।
এর পাশাপাশি ব্রাত্য বসুর বক্তব্য, এত সব সুযোগ সুবিধা চালু করার পরও যারা এমন আন্দোলন করছেন, তারা আদপে শিক্ষক-শিক্ষিকাই নন। তিনি বলেন, “এরপরও যারা আন্দোলন করছেন, তারা শিক্ষক-শিক্ষিকা নন, তারা বিজেপি ক্যাডার”।





