আর কোনও রাখঢাক নয়, এবার সরাসরিই চীনকে নিজেদের ‘প্রকৃত বন্ধু’ ঘোষণা করল তালিবান, চাপ বাড়ছে ভারতের

তালিবান শাসিত আফগানিস্তানের পাশে রয়েছে চীন ও পাকিস্তান, তা এতদিনে বেশ স্পষ্ট। তবে কোনও পক্ষই সরাসরি তা স্বীকার করে নি। তবে একদেশ আফগানিস্তানে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আগ্রহী তো অন্য দেশ দাবী জানিয়েছে যাতে তালিবদের সঙ্গে গোটা বিশ্বের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা যায়। এমন আচরণে বেশ খুশি তালিবান। খোলাখুলি তালিবান এবার বলেই দিল, “চীনই আমাদের প্রকৃত বন্ধু”।

চীন প্রসঙ্গে তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লা মুজাহিদিন বলে, “চিনই আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী এবং প্রকৃত বন্ধু। ওরা এ দেশে বিনিয়োগ করতে চায়। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিকে পুনর্গঠন করতে চায়”। আফগানিস্তানে রয়েছে তামার খনি। সেই তামার খনিকে বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় চীন। এরইসঙ্গে চীনকে পাথেয় করেই গোটা বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইছে তালিবান। এদিকে আফগানিস্তান নিয়ে পাকিস্তানও আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

আরও পড়ুন- বাম ও কংগ্রেসের তরফে তালিবানদের ভরপুর সমর্থন করা হচ্ছে, দাবী বিজেপি নেতার

গতকাল, শনিবার পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, “বিশ্বের উচিত আফগানিস্তান নিয়ে ভাবনাচিন্তা করতে হবে। মানবিকতার স্বার্থে আফগানিস্তানকে আর্থিক সাহায্য করা দরকার। তবে বিশ্বজুড়ে শরণার্থী সমস্যা সমাধান করা যাবে”।

জানা গিয়েছে তালিবান প্রসঙ্গ নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব অ্যান্তোনই গুতেরেসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন্ন ইমরান। পরামর্শ দিয়েছেন যাতে আফগানিস্তানের সমস্যার সমাধান পথ ভেবে দেখা হয়। এদিকে তালিবান সরকার গঠন করতে আফগানভূমে পা রেখেছেন আইএসআই প্রধান। সুতরাং বলা যেতেই পারে যে তালিবানের সঙ্গে চীন ও পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতা ক্রমেই উন্মুক্ত হয়ে উঠছে যা ভারতের ভয়ের কারণ হতে পারে।

গত ১৫ই আগস্ট কাবুল দখলের মাধ্যমে আফগানিস্তানে ফের ক্ষমতা কায়েম করে তালিবান। গোটা বিশ্ব যখন তালিবদের নিন্দায় সরব, তখন তালিবান জঙ্গিদের উদ্দেশ্যে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয় চীন।

আরও পড়ুন- ফের পঞ্জশীরে মাসুদ বাহিনীর কাছে পর্যুদস্ত হল তালিবান, প্রতিরোধ বাহিনীর পাল্টা জবাবে শেষ ৭০০ জেহাদি

বলে রাখি, গত ২৮শে জুন তিয়ানজিনে তালিবানের নয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন চীনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। এই প্রতিনিধি দলে ছিল তালিবানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা তথা আফগানিস্তানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মোল্লা আবদুল ঘানি বরাদর। চীন তাদের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্পে আফগানিস্তানকে শামিল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর জেরে স্বাভাবিকভাবেই তালিবানের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করে পূর্ব-এশিয়ায় ক্ষমতা বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে শিন জিনপিংয়ের সরকার।

RELATED Articles