এবার নতুন ভাইরাসে আক্রান্ত চীন, মৃত ৭; আক্রান্ত ৬০

এখনও মেটেনি করোনাভাইরাসের জের, ইতিমধ্যেই চীনে আবির্ভাব হয়েছে নতুন আরেক ভাইরাস। চীনে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে টিক বাইট ভাইরাস। ‌ এই ভাইরাসের নাম বুনিয়া ভাইরাস। এখনও পর্যন্ত মারা গিয়েছেন সাত জন, আক্রান্ত ষাট।

আক্রান্তদের মধ্যে দুই ধরনের উপসর্গ দেখা যাচ্ছে, এক হল ধুম জ্বর দুই হল থ্রমবকটোনিয়া সিনড্রোম। পূর্ব চীনের জিয়াংসু এবং আনহুই প্রদেশে এই বুনিয়া ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতেই জিয়াংসু প্রদেশের এই ভাইরাস সংক্রমণের খবর মিলেছিল। যদিও তখনও তা মারাত্মক আকার ধারণ করেনি। ‌পরেরটা আনহুই প্রদেশের ছড়িয়ে পড়ে।

চীনা ভাইরোলজিস্টদের সূত্রে জানা যাচ্ছে যে, এই ভাইরাসের প্রাথমিক বাহক হল এশিয়ার হেমাফিসালিস লঙ্গিকোরনিস নামে এক ধরনের এঁটুলি পোকা।‌ মার্চ থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে এই ভাইরাস সংক্রমণ ছড়ায়। ‌ ২০১১ সালে একটি সমীক্ষা থেকে জানা যাচ্ছে যে, আক্রান্তদের জ্বর, মাথা যন্ত্রণা, বমি বা বমিবমি ভাব, অসহ্য যন্ত্রণা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে এবং এই রোগ থেকে সেরে উঠতে প্রায় ৭ থেকে ১৩ দিন পর্যন্ত লাগতে পারে।

যেহেতু এঁটুলি পোকার মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়াচ্ছে তাই কৃষক, শিকারি এবং পশুপালকদের মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। কারণ এই এঁটুলি পোকা সাধারণত গবাদিপশুকে আক্রমণ করে। তবে চীনের ভাইরোলজিস্টরা মানুষ থেকে অন্য মানুষের দেহে সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

আজ থেকে ১০ বছর আগেও চীনের বেশ কিছু মানুষের রক্তের নমুনায় এই ভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছিল। তখন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন এই রোগে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ৩০ শতাংশ।

চীনের ইনফরমেশন সিস্টেম ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন এখন জানাচ্ছে, বর্তমানে এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ১৬ থেকে ৩০ শতাংশ। ‌

আশঙ্কার কথা হলো যে এই ভাইরাসের কোনো কার্যকরী প্রতিষেধক এখনও পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। এই করোনার মতো এক্ষেত্রেও সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভাইরোলজিস্টরা। তাই মাঠেঘাটে, জঙ্গলে গেলে পা ঢাকা পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

RELATED Articles

Leave a Comment