রূপ বদলাচ্ছে করোনা। করোনার নতুন স্ট্রেন ওমিক্রনের জেরে এখন গোটা বিশ্ব সন্ত্রস্ত। তবে এই ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে আরও বড় দুশ্চিন্তার কারণ হল এই ভ্যারিয়েন্ট রূপ বদলেছে। করোনাকে চিহ্নিত করতে যে উপসর্গগুলি ছিল, তা এই ভ্যারিয়েন্টে ধরা পড়ছে না। যা চিকিৎসকদের বেশ দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। কারণ উপসর্গ দিয়ে রোগ চিহ্নিত না করা গেলে, তা ক্রমেই ভয়ঙ্কর রূপ নেবে।
করোনার স্বাভাবিক উপসর্গগুলি হল – জ্বর, সর্দি, কাশি, স্বাদ-গন্ধ চলে যাওয়া, ইত্যাদি। কিন্তু ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রে এর কোনও উপসর্গই দেখা যাচ্ছে না। দক্ষিণ আফ্রিকার মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ডঃ অ্যাঞ্জেলিক কোয়েটজি জানিয়েছেন যে যারা ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, তারা চূড়ান্ত মাথাব্যাথায় ভুগছেন। এছাড়াও রয়েছে শরীরে দুর্বল ভাব ও শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা।
ইতিমধ্যেই দেশে ধরা পড়েছে ওমিক্রনে আক্রান্ত ব্যক্তি। কর্ণাটকের দুই বাসিন্দার শরীরে করোনার এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট থাবা বসিয়েছে। তাদের একজনের বয়স ৬৬ ও অন্যজনের বয়স ৪৬। তাদের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তাদের সংস্পর্শে আসা ৫ জন করোনা পজিটিভ বলে জানা গিয়েছে।
ওমিক্রনে আক্রান্তদের একজন হলেন ইজরায়েলের চিকিৎসক ড. এলাড মোর। তাঁর দাবী, তিনি লন্ডনে গিয়েছিলেন চিকিৎসকদের জন্য আয়োজিত একটি সম্মেলনে যোগ দিতে। সেখান থেকে ফেরার পরেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই চিকিৎসকের দাবী, সেই সম্মেলন থেকেই তাঁর দেহে থাবা বসিয়েছে ওমিক্রন ভাইরাস। কোথা থেকে শুরু হয়েছে ওমিক্রন সংক্রমণ, তা নিয়ে নানান মত। তবে প্রাথমিকভাবে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকেই করোনার এই ভ্যারিয়্যান্ট ছড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গবেষকদের একাংশের মতে, করোনা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ না মানলে ওমিক্রনে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই কারণে হাত ধোঁয়া, পরিস্কার থাকা, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা, মাস্ক পরা, এই নানান বিধিগুলি মেনে চলা অত্যাবশ্যক। গবেষকদের আশঙ্কা করোনার টিকাও এই ভ্যারিয়েন্টকে হারিয়ে দিতে পারে। যদিও গবেষকদের একাংশের মত, কোভ্যাক্সিন করোনার এই নতুন ভ্যারিয়েন্টের উপর কার্যকরী।





