‘ইনশাআল্লাহ বলে পশ্চিম বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হতে চান মমতা’, তৃণমূল সুপ্রিমোকে বেলাগাম তোপ সৌমিত্র খাঁ-এর

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুম্বই সফর নিয়ে তাঁকে কটাক্ষ শানালেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। মুম্বই সফরে ইউপিএ নিয়ে মমতা যে মন্তব্য করেছেন, তাতে জাতীয় রাজনীতির সমীকরণে জল্পনা তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের তরফে মমতার মন্তব্যে নিন্দা করা হয়েছে। এবার পালা বিজেপির। সৌমিত্র খাঁ-এর মতে, মমতা রাজনৈতিক কৌশল অবলম্বন করছেন যাতে তৃণমূলকে জাতীয় তকমা হারাতে না হয়।

সংবাদ সংস্থা এএনআইকে সৌমিত্র খাঁ বলেন, “একটি দলকে জাতীয় দল হিসেবে থাকার জন্য সাধারণ নির্বাচনে কমপক্ষে ৬ শতাংশ ভোট পেতে হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর জাতীয় দলের মর্যাদা হারানোর আশঙ্কা করছেন। তাই, ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের জন্য একটি কৌশল তৈরি করতে তিনি মুম্বইতে এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ারের সাথে দেখা করেছিলেন”।

সৌমিত্র আরও বলেন, “২০২২-এ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন রাজ্যে ২ শতাংশ ভোট পেতে দৌড়াচ্ছেন কারণ তৃণমূলকে একটি জাতীয় রাজনৈতিক দল থাকতে সারা ভারতে ৬ শতাংশ ভোট পেতে হবে”।

উল্লেখ্য, ভারতের নির্বাচন কমিশন অনুযায়ী, দেশের সাতটি জাতীয় দল হল অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস, জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী), ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি, ভারতীয় জনতা পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টি। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও দল তখনই ‘জাতীয় মর্যাদা’ পায় যখন সেই দলের প্রার্থীরা একটি লোকসভা নির্বাচনে একটি রাজ্যে অন্ততপক্ষে ৬ শতাংশ ভোট পায় বা সেই দলের চারজন সাংসদ সদস্য যদি অন্য রাজ্য থেকে পুনরায় নির্বাচিত হন বা গত সাধারণ নির্বাচনে যদি লোকসভার আসনে সেই দল অন্তত ২ শতাংশ ভোটে জেতে।

মমতার মুম্বই সফর নিয়েও এদিন তোপ দাগেন সৌমিত্র। তাঁর কথায়, “মমতা ইনশাল্লাহ বলেন এবং এখন তিনি মুম্বই গিয়ে গণপতি বাপ্পা মোর্যা জপ করছেন। অজ্ঞাত কারণে তিনি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। মমতার কাছে বাঙালি ছাড়া যে বাংলায় প্রবেশ করে সে বহিরাগত। তাহলে, এইভাবে তিনি কি মহারাষ্ট্রের লোকেদের জন্য বহিরাগত ছিলেন না? মমতা রাজনৈতিক ছলনা করছেন”।

তাঁর সংযোজন, “মমতা সব সময় জয় ভারতের বদলে জয় বাংলা বলেন। তিনি আমাদের জাতীয় সঙ্গীতকেও সম্মান করেন না। তিনি জয় ভারত বলতে চান না। তিনি ভারতের অখণ্ডতা ভাঙতে চান। তিনি পশ্চিমবঙ্গকে পশ্চিম বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চান। মুম্বইয়ে তিনি বলেছিলেন ‘জয় বাংলা জয় মহারাষ্ট্র’ কিন্তু জয় ভারত নয়। ইনশাআল্লাহ বলে তিনি পশ্চিম বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হতে চান”।

RELATED Articles