কেন আচমকা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম? জানাল সংস্থা

গতকাল, সোমবার সন্ধ্যেবেলা আচমকাই বন্ধ হয়ে যায় ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম। প্রায় ছ’ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বন্ধ ছিল এই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি। এর জেরে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১.০৬ কোটি ব্যবহারকারী প্রভাবিত হন।

বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে সোমবার ফেসবুকের শেয়ার পড়ে যায় প্রায় ৪.৯ শতাংশ। যা গত বছর নভেম্বরের পর এটি তাদের সবচেয়ে বড় দৈনিক পতন। বিজ্ঞাপন পরিমাপক সংস্থা স্ট্যান্ডার্ড মিডিয়া ইনডেক্স অনুযায়ী, বন্ধ থাকাকালীন ফেসবুক প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৫,৪৫,৫০০ ডলার অ্যাড রেভেনিউ হারিয়েছে। কোম্পানির নিজস্ব ইমেল সিস্টেম সহ ফেসবুকের কিছু অভ্যন্তরীণ অ্যাপ্লিকেশনও প্রভাবিত হয়েছে বলেও খবর।

তবে প্রথমের দিকে ফেসবুকে স্পষ্ট করে এই আউটেজের কারণ জানায়নি। তাদের তরফে বলা হয়, কিছু ব্যবহারকারীর অ্যাক্সেস করতে সমস্যা হচ্ছে। এরই সঙ্গে জানানো হয় যে অ্যাক্সেস পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ চলছে। এই বিষয়ে পরে একটি বিবৃতিও দেওয়া হয়।

এই বিবৃতিতে জানানো হয় যে এই অবস্থার জন্য দায়ী কনফিগারেশন বদলের ত্রুটি। তবে এই কনফিগারেশন কাদের করা বা এটি পূর্বপরিকল্পিত কী না, সে বিষয়ে কিছু জানায়নি ফেসবুক।

তবে জানানো হয়, “আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং টিম জানতে পেরেছে যে রাউটারগুলিতে কনফিগারেশন চেঞ্জে গলদের ফলে আমাদের ডেটা সেন্টারগুলির মধ্যে নেটওয়ার্ক ট্র্যাফিকের সমন্বয়ে সমস্যা হচ্ছিল। এর ফলে কানেকশান ব্যাহত হয়। নেটওয়ার্ক ট্রাফিকের এই বিঘ্ন আমাদের ডেটা সেন্টারগুলির কানেকশানের পথে একটি ক্যাসকেডিং প্রভাব ফেলে। আমাদের পরিষেবাগুলি এই কারণে বন্ধ হয়ে যায়”।

অন্যদিকে রয়টার্স ফেসবুকের বেশ কয়েকজন কর্মীকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করে। তাদের কথায়, সম্ভবত ইন্টারনেট ডোমেইনে অভ্যন্তরীণ রাউটিং গলদের কারণে এই বিভ্রাট ঘটেছে। তাঁরা এও জানান, অভ্যন্তরীণ কমিউনিকেশন টুলস এবং অন্যান্য কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা হয়েছিল। বেশ কয়েকজন সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞের মতে, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইনস্টাগ্রামের বিঘ্ন একটি অভ্যন্তরীণ ত্রুটি। আবার হার্ভার্ডের বার্কম্যান ক্লেইন সেন্টার ফর ইন্টারনেট অ্যান্ড সোসাইটির পরিচালক জোনাথন জিট্রেন টুইট করে লেখেন, “ফেসবুক গাড়ির মধ্যে চাবি ফেলে রেখেই দরজা বন্ধ করে ফেলেছে”।

RELATED Articles