“এমনিতেই রাজনীতি এখন নীতি-বিহীন, শুধু শুধু অভিনেতাদের দোষ দিয়ে লাভ নেই!” নিজের আপকামিং ছবি-সহ রাজনীতির ঘোরপ্যাঁচ নিয়ে অকপটে দেব

নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারীর চরিত্র করা সবথেকে চ্যালেঞ্জিং! এরকম একজন ব্যক্তিত্বকে রুপোলি পর্দায় ফুটিয়ে তোলা কম ঝুঁকির ব্যাপার না! এরকমই কিছু বক্তব্য পর্দার নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারী তথা সাংসদ-অভিনেতা দেবের। এদিন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে নিজের আপকামিং ছবি নিয়ে কথা বললেন অভিনেতা।

সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নে দেব জানালেন, অনেক কঠিন চরিত্রগুলির মধ্যে একটি নগেন্দ্রপ্রসাদের চরিত্র। এরকম একজন ব্যক্তিত্বকে নিয়ে ভালোমতোই পড়াশোনা করতে হয়েছে। যতক্ষণ না ওঁর জীবন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়, ততক্ষণ অবধি ফুটিয়ে তোলা যায়না। ১৮৬০-৭০-এর সময় দেখানো হয়েছে ছবিতে। যে সময়ে ফুটবলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন নগেন্দ্রপ্রসাদ। তিনি প্রথম ব্যক্তিত্ব যিনি ময়দানে কোনও ভারতীয়দের প্রবেশের অনুমতি যেখানে ছিল না, সেখানে বাঙালি হিসেবে তিনি ক্লাব খুলেছিলেন।

অভিনেতার কথায়, সব সময় মাথায় রাখতে হয়েছিল তাঁর হাঁটা-চলা, তাকানো, সংলাপ বলার ভঙ্গিমা। যাতে বিশ্বাসযোগ্যতা ফুটিয়ে তোলা যায় ছবিটার মধ্যে। সেই কারণেই ট্রেলারের গান দেখে দর্শকদের মনে হচ্ছে দেব নয় নগেন্দ্রকেই দেখছেন।

এসভিএফ-এর সঙ্গে কাজ করার প্রসঙ্গে অভিনেতা জানালেন, “কখনোই আমি বা এসভিএভ বলিনি একে অন্যের সঙ্গে কাজ করব না। ওদের কিছু ছবির প্রস্তাব ভালো লাগেনি, সেগুলো করিনি। যেটা ভালো লেগেছে সেটা করেছি। শেষ পর্যন্ত যে ছবি করা হয় সেটা নিয়ে খবর হয়। তার মানে অফার আসেনি তা নয়। আর ইন্ডাস্ট্রিতে আসার পরে এখনও পর্যন্ত ভেঙ্কটেশের বড় বাজেটের ছবির চ্যালেঞ্জিং চরিত্রের জন্য প্রথম ফোন আমার কাছেই আসে। এটা একটা গর্ব।”

পাশাপাশি জিৎ-এর সঙ্গে অভিনয়ে আসা নিয়ে তিনি জানালেন, এটা এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ নয়। দর্শক সিনেমা হলে আসছে কি না! সেটা জরুরি। যেহেতু গত বছর পর্যন্ত সিনেমা হলের মুখও মানুষ দেখেনি।

চলতি বছরের পুজোতে একইসঙ্গে টলিউডের দুই সুপারস্টারের ছবি মুক্তি পেতে চলেছে। সেই বিষয়ে অভিনেতা দেব জানালেন, “এবারের লড়াই শুধু কে কটা আসন পেল, সেই অঙ্কের নয়। সব বয়সের মানুষকে হলে টেনে আনা এবারের সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। জিৎ, অঙ্কুশ বা আমার ছবি দিয়ে সে ভয় কাটানো গেলে ক্ষতি নেই। সত্যি কথা বলতে ছবির ধারা পাল্টে ফেলেছি। দর্শক বদলেছেন খানিকটা। তাই জিৎ-এর সঙ্গে কোনও রেষারেষি নেই।” তবে গত বিধানসভা নির্বাচনে টলিউডের তারকারা কি সাংসদ দেবের সাফল্য দেখে এসেছিলেন?

এই বিষয়ে অভিনেতা জানালেন, “তা বলতে পারব না। কে কেন এসেছেন? সেটা আমার জানার কথা নয়। তাদের আসার উদ্দেশ্য কি ছিল! সেটা তারাই বলতে পারবেন।” পাশাপাশি দলবেঁধে তারকাদের রাজনীতিতে যোগ দেওয়া নিয়ে অভিনেতা জানালেন, “রাজনীতিতে এলাম, জিতলাম বা হারলাম এটাই শেষ নয়। মানুষের মধ্যে টিকে থাকতে হবে। কাজ করতে হবে। সেই মানসিকতার অভাব রয়ে গিয়েছে এখনও। সকলে শুধু রেজাল্ট দেখে। তার পেছনের পরিশ্রমটা দেখেনা। দেব যদি সাফল্য পেয়ে থাকে, তবে বুঝতে হবে তাঁর নিজস্ব কাজের একটা ধারা রয়েছে। নির্বাচনের প্রচারে এসে আগেই বলে মাস্ক পরতে। সৌজন্যের রাজনীতির ক্ষেত্রে আমি দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পেরেছি বলে আমার মনে হয়।”

অন্যদিকে বাবুল সুপ্রিয়র তৃণমূলে যোগদান নিয়ে অভিনেতা জানালেন, “বাবুলদা বিজেপিতে ছিলেন তখনও ভালো বন্ধু ছিলেন। এখনও ভালো বন্ধুই আছেন। উনি যা সিদ্ধান্ত আগামী দিনে নেবেন, তারপরেও আমরা ভালো বন্ধুই থাকবো।” চলতি বছরের পুজোতে দেবের দুটি ছবি আসতে চলেছে। একটি তাঁর প্রযোজনা সংস্থার। অন্যদিকে আরেকটিতে তিনি অভিনয় করেছেন। “হবুচন্দ্র রাজা গবুচন্দ্র মন্ত্রী” ও “গোলন্দাজ”। সে বিষয়ে অনিকেত চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিরোধিতা লেগেছিল। যা নিয়ে তিনি জানালেন, “ফেসবুকে উনি লিখেছিলেন ‘হবুচন্দ্র রাজা গবুচন্দ্র মন্ত্রী’তে রাজা-রানির চরিত্রগুলি আসলে বিজেপির রূপক। সেটা নিয়ে আমার আপত্তি ছিল। আমি কখনও কোন দলের নাম নিয়ে নিইনি। প্রযোজক হিসেবে জানি ছবির মার্কেটিং কেমন হবে।”

পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, “রাজনীতিতে এখন আর ‘নীতি’ নেই। হিন্দু-মুসলিম ভোট ভাগাভাগি হচ্ছে। সকলেই ক্ষমতা চাইছেন। হেরে গেলে দলবদল করছেন। সেক্ষেত্রে শুধু অভিনেতাদের দোষ দিয়ে কোন লাভ নেই। একদিকে নিজের আপকামিং ছবি আর অন্যদিকে রাজনীতিতে শিল্পীদের একে একে যোগদান নিয়ে এদিন খোলাখুলি কথা বললেন সাংসদ-অভিনেতা দেব।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles