মূক ও বধির ছাত্রী, সমস্ত প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে দিয়েছেন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা, ঈশিতার অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে কুর্ণিশ সকলের

কোনো প্রতিবন্ধকতাই মানুষকে আটকাতে পারে না। তাই কথায় বলে মানুষ চাইলে কি না হয়। মুক ও বধির এক পড়ুয়া পড়াশোনা করছেন সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে। ইতিমধ্যেই দিয়ে ফেলেছেন মাধ্যমিক পরীক্ষা। এই বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে সে। পরিবারের সকলে তার পাশে থেকে তাকে সহায়তা করছেন তার পড়াশোনায়। পাশে রয়েছেন বাবা। এমনই চিত্র ফুটে উঠলো কাঁথি এলাকায়।

কাঁথির বাসিন্দা ঈশিতা মন্ডল ২০২৪ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। কিন্তু তাঁর জীবনটা আর পাঁচ জন পড়ুয়ার মতো নয়। ঈশিতা বিশেষভাবে সক্ষম মূক ও বধির। শারীরিক সমস্যা তাঁর পড়াশোনার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। কাঁথি ব্রাহ্ম বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেছেন ঈশিতা। এবার তার উচ্চমাধ্যমিকের পালা। প্রতিবন্ধকতাকে ভুলে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে কাঁথির ঈশিতা। কাঁথির মুখ বধির ছাত্রী ঈশিতা মনের জোরেই দিচ্ছে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। মনের জোরে সব প্রতিবন্ধকতাকে দূরে সরিয়ে দেওয়া যায়, তা আরো একবার প্রমাণ করে দিলেন ঈশিতা। সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে পাড়ি দিচ্ছে সে। একদিন যোগ্য চাকরি করবেন, এমনই আশা।

ঈশিতার বাবা লালমোহন বাবুর কথায়, “আমার মেয়ে জন্ম থেকেই এক প্রতিবন্ধক শিশু। সে বাম ও ডান কানে ১২০ শতাংশ শুনতে পারে না। কন্টাই ডিফেন্ডার স্কুলে পড়াশোনা করত‌। তার সাথে ঈশিতা পড়ত কাঁথি ব্রাহ্ম বালিকা বিদ্যালয়ে। কাঁথি ব্রাহ্ম বালিকা বিদ্যালয় থেকে জেনারেলদের সাথে পড়াবো বলে বাকি ছাত্র-ছাত্রীদের মতো এডমিশন করে এই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি। উচ্চ মাধ্যমিক দিয়েছে। মেয়ে আগামী দিনে কম্পিউটার নিয়ে পড়বে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

এমনকি রাজ্য সরকার মেয়েদের পড়াশোনা নিয়ে যেভাবে বিভিন্ন প্রকল্প তৈরি করেছেন তাতে খুশি ঈশিতার বাবা। তিনি জানাচ্ছেন, “বর্তমানে রাজ্য সরকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেয়েদের পড়াশোনার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প করেছেন। এই ধরনের ছেলে মেয়েরা যাদের পরিবারে আছে তারা যেন তাদের ছেলেমেয়েকে বড় করে তুলতে পারে ও সরকারের কাছ থেকে ন্যায্য পাওনা আদায় করতে পারে, এইসব ছেলেমেয়েদের জন্য আগামী দিনের জীবিকা অর্জনের কোনো সুরাহা করে রাজ্য সরকার তাহলে খুবই ভালো হয়।”

নুন আনতে পান্তা ফুরোয় মন্ডল দম্পতির। পৌরসভায় রোজ মজুরির কর্মী লালমোহন মন্ডল। দেশপ্রাণ ব্লকের অযোধ্যাপুর গ্রামে বাড়ি ঈশিতার।প্রতিদিন কাঁথি পৌরসভায় হাজিরায় পায় সামান্য টাকা। এর উপরেই দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করেন। যেন প্রতিদিন জীবনযুদ্ধে লড়ে চলেছেন জিতে চলেছেন নিজের মতো করে। কিন্তু হার মানতে নারাজ। তাদের বিশ্বাস উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। ঠিক কোন একদিন সাফল্য পাবে মেয়ে, আশায় বুক বাঁধছেন ঈশিতার মা-বাবা।

আরও অন্যান্য খবর