‘মিথ্যে বলছেন উনি, না জানিয়ে ছবি তুলে অপপ্রচার করছেন’, কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা

কোনও ধরণের মধ্যস্থতা হয়নি পুলিশ কমিশনার ও আন্দোলনরত চিকিৎসকদের মধ্যে। এবার তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যে’ বলার অভিযোগ করে ফুঁসে উঠলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। আজ, বুধবার দুপুরে পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র ডক্টরস ফোরামের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করে জানানো হয়, লালবাজার অভিযান নিয়ে কুণাল ঘোষ অপপ্রচার করছেন।

ঘটনাটি ঠিক কী ঘটেছে?

আসলে গতকাল, মঙ্গলবার কুণাল ঘোষের তরফে একটি ছবি পোস্ট করে দাবী করা হয় যে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নাকি তাঁর যোগাযোগ হয়েছে। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, “আজ সকালে আন্দোলনকারীদের তরফে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁদের তরফে বলা হয় নির্দিষ্ট কিছু কারণে লালবাজারের ধরণা এগোন ঠিক হবে না। তাঁরা আজই এখনই নগরপাল ইস্তফা না দিলে উঠবেন না, এই দাবিতে অনড় থাকবেন না। পরে ইস্তফা দিলেও হবে। আজ শুধু নগরপালের হাতে স্মারকলিপি দিয়ে দেখা করতে চান। তারপর রাজপথ থেকে ধরনা তুলে নেবেন”।

এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ মিথ্যে বলে দাবী করা হয় জুনিয়র চিকিৎসকদের তরফে। জুনিয়র চিকিৎসকদের তরফে কিঞ্জল নন্দ স্পষ্ট বলেন, “এটা একেবারেই মিথ্যা। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে কোনওরকমের কোনও যোগাযোগ করিনি। আমরা যেটুকু করেছি, তা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে যে ডিসিশন হয়েছে, সেটাই করেছি। কারোর কোনও মধ্যস্থতা এখানে ছিল না। গত আন্দোলনেও ছিল না, আগামীতেও থাকবে না। এটা আমাদের স্ট্যান্ড। এই আন্দোলন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। এই ভাবেই আন্দোলন চলবে”।

জুনিয়র চিকিৎসকদের কথায়, “আন্দোলনের যা মূল সুর, তা অরাজনৈতিক। সংবাদমাধ্যমে যা উঠে এসেছে, তা আন্দোলনের মূল সুরের সমর্থক নয়”।

বলে রাখি, গত সোমবার লালবাজার অভিযান করেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগের দাবীতে পথে নামেন তারা। প্রায় ২২ ঘণ্টা অবস্থান বিক্ষোভের পর জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রতিনিধি দল দেখা করেন পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে। এদিনই চার চিকিৎসক পড়ুয়ার সঙ্গে ছবি পোস্ট করেন কুণাল ঘোষ।

এই বিষয়ে এক জুনিয়র চিকিৎসক বলেন, “এক সংবাদমাধ্যমে আমাদের ছবি দেখানো হয় এই বলে যে, আমরা নাকি আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি হিসাবে মধ্যস্থতা করতে এসেছি। এটা মিথ্যা”।

আরও পড়ুনঃ ‘ডাক্তাররা কসাইতে পরিণত হচ্ছে’ মন্তব্যের জের! চিকিৎসকদের হুমকি ও অসম্মান করার ঘটনায় তৃণমূল বিধায়ক লাভলির বিরুদ্ধে মামলা হাইকোর্টে

তাঁর বক্তব্য, “বিগত তিন সাড়ে তিন বছর ধরে আমাদের ওপর সন্দীপ ঘোষ ও তাঁর বাহিনীর দ্বারা আমরা যেভাবে অত্যাচারিত হয়েছিল, সেটাই আমরা ওই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলাম। তাঁরাই আমাদের আমন্ত্রণ করেছিলেন। সেখানে কাকতালীয়ভাবে কুণাল ঘোষের সঙ্গে দেখা হয়। তিনি ডেকে আতিথেয়তা করেন। আমরা কোনওভাবেই WBJDF, আন্দোলনকারীদের মধ্যস্থতাকারী হিসাবে যায়নি।লালবাজার অভিযান ও তার পরিণতি নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। আমাদের মধ্যে যে আলাপচারিতা হয়েছে, সেটা বড়জোর ২ থেকে ৩ মিনিট। না জানিয়ে ছবি তোলা হয়েছে। সেটা নিয়ে অপপ্রচার করা হয়েছে”।

RELATED Articles