করোনাভাইরাস শুধুমাত্র মানুষের শরীরে বাসা বাঁধেনি, এটা বাসা বেধেছে দেশের অর্থনীতিতেও। দীর্ঘ দুইমাসের লকডাউনে দেশের অর্থনীতি ঠেকেছে রীতিমতো তলানিতে। সংস্থাগুলি নিজেদেরকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে ছাঁটাই করেছে একের পর এক কর্মী। এই অবস্থায় এই কর্মীরা হঠাৎ করে চাকরি চলে যাওয়ায় পড়েছেন অথৈ জলে। ফলে কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা ছাড়া তারা এখন আর কোনো রাস্তা খুঁজে পাচ্ছেন না এই প্রতিবাদেরই এক টুকরো সম্প্রতি দেখা গেল সেক্টর ফাইভে।
সোমবার সকালে সেক্টর ফাইভে এজিসের বিল্ডিং এর সামনে জড়ো হয় প্রায় কয়েকশো তরুণ-তরুণী। করণা রুখতে সামাজিক দূরত্ব বিধি তখন শিকেয় উঠেছে কারণ পেটের ভাত জোগাড় করাটাই এই তরুণ-তরুণীদের কাছে এখন বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরা এই বিল্ডিঙে বিভিন্ন সংস্থার কল সেন্টারে কর্মরত। অভিযোগ সংস্থাগুলি এদেরকে ছাঁটাই করেছে এবং কোনরকম ঠিকঠাক টার্মিনেশন লেটারও এই ছেলে মেয়েদের দেওয়া হয়নি। এগারো মাস ধরে এরা পে-স্লিপও পায়নি। এই অবস্থায় এরা কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। অনেকের এই টাকাতেই পুরো সংসার চলে। এখন বাড়িতে ভাতের হাঁড়ি চড়বে কী করে তা নিয়ে দিশাহীন এই তরুণ-তরুণীরা। তাই বাধ্য হয়েছেন তারা পথে নামতে।
শৌভিক ভট্টাচার্য জানালেন, এখানে অনেকেই মফস্বলের ছেলেমেয়ে, ভাড়াবাড়িতে থেকে চাকরি করে। হঠাৎ চাকরি চলে যাওয়ায় এরা কী করবে বুঝতে পারছে না। সরকার যখন বলে দেয়, বেসরকারি সংস্থা নিজেরটা বুঝে নেবে তখন কোম্পানিগুলো লোক ছাঁটাই করে বিষয়টা স্টেবল করতে চাইছে। কোনো নোটিশ ছাড়াই এদেরকে বার করে দেওয়া হয়েছে। এখন তাদের ফিরিয়ে নিতে হবে কোম্পানিকে এই দাবিই তারা করছেন।
যতক্ষণ না কোম্পানিগুলো এদেরকে ফিরিয়ে নেয় বা এই ব্যাপারে কোনো সমাধানসূত্র দেয় ততদিন তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।





