West Bengal : “ফেসবুকে লিখেছিলাম ‘ফ্রম কলকাতা’, আসলে বাংলাদেশি… ২০ হাজারে কাগজপত্র করেও আজ পথে বসেছি”— হাকিমপুরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন রনি!

ভারতের হাকিমপুর চেকপোস্টে কয়েকশো মানুষ রোজ বসে থাকে। রাস্তায় পড়ে থাকা, রাতে ঠান্ডায় থাকা—এগুলো এখন তাদের দৈনন্দিন বাস্তবতা। এর মধ্যে রুকনুজ্জামান রনি, যাকে সবাই রনি বলে ডাকে, বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। সে ফেসবুকে নিজের অবস্থান ‘ফ্রম কলকাতা, লিভস ইন কলকাতা’ লিখেছিল। বাস্তবে সে কলকাতার ছেলে নয়, বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার নওয়াবেঁকি গ্রামের ছেলে। রনি ক’দিন ধরে হাকিমপুরে বসে রয়েছে, বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায়। তার দিনগুলো কেবল শারীরিক না, মানসিকভাবেও কঠিন।

রনির কথা অনুযায়ী, ভারতে আসার পথে দালালকে পঁচিশ হাজার টাকা দিয়ে তারা পুরো পরিবারকে বড় একটা নদী পার করিয়েছিল। রাত্রির অন্ধকারে নদী পার হওয়া, ঘাট থেকে ট্রেনে ওঠা—সবই ছিল ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা। ভারতে মজুরি বা জীবনযাত্রার উন্নতির জন্য রনি এবং তার পরিবার এই ঝুঁকি নিয়েছিল। প্রথমে তারা আধার কার্ড, প্যান কার্ড ও রেসিডেনশিয়াল সার্টিফিকেটের মতো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেছিল, যা বাংলাদেশ থেকে আসা অনেকে তাদের জীবন বাঁচাতে ব্যবহৃত হয়। কাগজপত্রের জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা প্রতি জন।

রনির জীবনধারা বাংলাদেশে শৌখিন ছিল। জিন্স-টি-শার্ট পছন্দ করত, লুঙ্গি নয়। ভারতে শীতের সময় খোলা আকাশের নিচে থাকতে গিয়ে সে একই রকম পোশাক পরেছে। তার ব্যান্ডানা ও গরম টি-শার্ট শুধু শীত ঠেকাতে, ফ্যাশনের জন্য নয়। পাশের অন্য অভিবাসীরা তাকে খোঁচা দিলেও বাস্তবে তাদের অবস্থাও অনেকটা একই—ভাই-বোন, বোন-বিয়ের চিন্তা, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা।

ভারতে মজুরি এবং জীবনযাত্রার তুলনা করে রনি জানাচ্ছে, দুই দেশে তফাৎ কমে এসেছে। বাংলাদেশে জামাকাপড়ের কাজ থেকে মাসে প্রায় ছয় হাজার টাকা মিলত, ভারতে মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা। এখানে সরকার রেশন, বিনামূল্যে হাসপাতাল সুবিধা ও মাসিক সাহায্য দেয়। সেই সঙ্গে, শহরে থাকলে মজুরি আরও বেশি। রনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে কাজ করলেও তাদের নিজস্ব ভবন নেই। বাধ্য হয়ে রাস্তার ধারে বসে থাকার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ Delhi bla*st: দিল্লি হামলার ছায়ায় উঠছে বড় চক্রের ইঙ্গিত! আত্মঘাতী উমরের ‘মগজধোলাই ভিডিও’ ঘিরে তীব্র আতঙ্ক!

হাকিমপুর চেকপোস্টে বসে রনি ভাবছে, জীবন কিভাবে এগোবে। বিএসএফ বা বিজিবির ডাক পর্যন্ত কিছু করার নেই। বাংলাদেশে ফিরলে কি পরিস্থিতি হবে, তা অজানা। তবে এই অভিজ্ঞতা তাকে শিখিয়েছে—সুখ-দুঃখ, ঝুঁকি ও জীবনযাত্রার জন্য সাহসই প্রধান হাতিয়ার। রনির গল্প শুধু এক অভিবাসীর নয়, বরং সীমান্ত পার হওয়া হাজার হাজার মানুষের জীবনের ছোট কিন্তু বাস্তব প্রতিচ্ছবি।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles