দিল্লির ব্যস্ত রাস্তায় হঠাৎ ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর দিন যত এগোচ্ছে, তদন্তে ততই নতুন নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। বিশেষ করে আত্মঘাতী হামলাকারীর ফোন ঘেঁটে উঠে আসা কিছু ভিডিও তদন্তকারীদের আরও চাপে ফেলেছে। প্রাথমিক সূত্রের দাবি, এই ভিডিওগুলো শুধু হামলার পরিকল্পনা নয়, তার চেয়েও বড় কোনও উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে—যা নিয়ে রীতিমতো চিন্তিত কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা মহল।
তদন্তকারীদের হাতে উঠে এসেছে উমর নামে ওই আত্মঘাতী হামলাকারীর মোবাইল ফোন। সেখানেই মিলেছে মোট ১২টি ভিডিও, যেগুলিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে—উমর কোনও একা-চলা উন্মাদ নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে মুসলিম তরুণদের জেহাদে নামতে উসকানি দিত। কখনও আফগান মুজাহিদিনের উদাহরণ, কখনও তালিবানকে ‘অনুপ্রেরণা’ হিসেবে তুলে ধরে ভারতবিরোধী যুদ্ধ ঘোষণার আহ্বান। শুধু তাই নয়, আত্মঘাতী বিস্ফোরণ কীভাবে ঘটাতে হয়, সে সম্পর্কেও সে নিজে আপত্তিকর ভিডিও দেখে শিখেছিল—এমনটাই দাবি তদন্ত সংস্থার।
এই ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)। সূত্র বলছে, এই হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে শ্রীনগর থেকে। ধৃতরা হলেন—ডা. মুজাম্মিল শেখিল গনাই (পুলওয়ামা), ডা. আদিল আহমেদ রাঠার (অনন্তনাগ), ডা. শাহিন সইদ (লখনউ), ও মুফতি ইরফান আহমদ ওয়াগে (সোপিয়ান)। এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—হামলার পরিকল্পনা, অর্থসংস্থান, প্রযুক্তিগত সহায়তা—সব ক্ষেত্রেই ছিল সক্রিয় ভূমিকা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মুজাম্মিল জইশের সঙ্গে যুক্ত বলেও সন্দেহ করছে এনআইএ।
গত ১০ নভেম্বরের সেই ভয়াবহ গাড়িবোমা বিস্ফোরণে প্রাণ হারান ১৫ জন। আহত হন আরও ২৫ জন। শুরু থেকেই সন্দেহের তীর ছিল আমির রশিদ আলির দিকে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করার পর জানা যায়, তার নামে নথিভুক্ত গাড়িটিই বিস্ফোরণে ব্যবহার করা হয়েছিল। আরও জানা গেছে, সে উমর নবি-র সঙ্গে মিলে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। নবি-র আর একটি গাড়িও উদ্ধার করেছে এনআইএ। সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে, এটি কোনও স্থানীয় ঘটনা নয়—বরং সংগঠিত চক্রের অংশ
আরও পড়ুনঃ INDIA : বিহারের ফলেই ফাটল ইন্ডিয়া জোট! কংগ্রেসকে ‘বোঝা’ বলেই ক্ষোভে ফুঁসছে জেএমএম থেকে উদ্ধব শিবির—জোট ছাড়ার ইঙ্গিত একাধিক দলের!
ইতিমধ্যে ৭৩ জন প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের বয়ান নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভিডিও, ফোনকল, আর্থিক লেনদেন ও যাতায়াতের রুট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, উমরের ফোনে পাওয়া ভিডিওগুলোই এই গোটা চক্রের প্রকৃত উদ্দেশ্য উন্মোচনের চাবিকাঠি। নতুন গ্রেপ্তার হওয়া চারজনকে পাটিয়ালা হাউস কোর্টের নির্দেশে হেফাজতে নিয়ে জেরা শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে দিল্লির এই বিস্ফোরণ শুধু একটি জঙ্গি হামলাতেই থেমে নেই—তার আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে আরও বড় কোনও ষড়যন্ত্র।





