নানান সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় নানান ভিডিও আমাদের চোখে পড়ে যা দেখে আমরা আগের থেকেই নিজেদের মনে একটা ধারণা করে নিই। রাস্তায় কাউকে মার খেতে দেখলে আমাদের মনে হয় ওই ব্যক্তিই আসল দোষী। কিন্তু সব ঘটনার যে একটা অন্যদিকও থাকতে পারে, তা আমরা ভেবেও দেখি না সেভাবে। হয়ত ঘটনাটা পুরোটাই উল্টো। এবার তেমনই এক ঘটনা সামনে এল খাস কলকাতায়
এক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন যাতে দেখা যাচ্ছে এক মহিলা এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্য রাস্তায় মারধর করছেন। প্রথমে ভিডিওটি দেখলে মনে হবে ওই ব্যক্তিই নিশ্চয় দোষী সেই কারণেই এমন কাজ। কিন্তু এই ঘটনার অন্যদিকটা জানলে সেই ভুল ভাঙবে।
মার খাওয়া ওই ব্যক্তি বলেন ভিডিওটি যিনি পোস্ট করেছেন তাঁর বুক করা ক্যাবের চালক। ওই সোশাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর কথায়, ভিডিওতে দৃশ্যমান মহিলা গাড়ির এমারজেন্সি আলো জ্বালিয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। কাউকে রক্তচাপের ওষুধ পৌঁছনোর জন্য নাকি তিনি এমনটা করেন। গাড়িতে এমারজেন্সি আলো দেখে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর ক্যাব চালক ওই মহিলার গাড়িটিকে তিনবার সাইডও দেন বলে জানা গিয়েছে।
কিন্তু ভিডিও পোস্ট করা ব্যক্তির কথায়, তাদের গাড়িটি একটি সিগন্যালে আটকাতেই ওই মহিলা গাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে ক্যাব চালককে মারধর করতে শুরু করেন। যদিও সেই সময় এমারজেন্সির কথা তাঁর মাথায় ছিল না বলেই খোঁচা দিয়েছেন ভিডিওর পোস্টদাতা।
ওই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী এও জানিয়েছেন যে ওই মহিলার গাড়িতে আরও চার-পাঁচজন ছিলেন আর তারা সকলে মিলেই যাদবপুরের মতো এলাকায় ৫-১০ কিলোমিটার দূরে কাউকে ওষুধ পৌঁছনোর জন্য এমারজেন্সি আলো জ্বালিয়েছিলেন গাড়িতে। ওই মহিলা যখন ক্যাব চালককে মারধর করছিলেন, সেই সময় মহিলার সঙ্গে থাকা এক যুবক নানান হুমকি শানাচ্ছিলেন ওই চালককে। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী এসব দেখে পুলিশে খবর দেন।
তিনি জানিয়েছেন, তিনি থানায় গিয়ে জানতে পারেন ওই মহিলা ক্যাব চালকের বিরুদ্ধে ইভটিজিং-এর অভিযোগ করেছেন যা আদতে সম্পূর্ণ মিথ্যে। আর সেই যুবক যিনি হুমকি দিচ্ছিলেন, তাকে আর থানায় দেখা যায়নি। জানা গিয়েছে, পরে ওই মহিলা ও ক্যাব চালক নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ায় আসেন।
এই ঘটনা থেকে অনেক বিষয়েই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। ওই মহিলার যদি এতটাই এমারজেন্সি ছিল, তাহলে তিনি ক্যাব চালকের সঙ্গে এমন বচসায় জড়াতে গেলেন কেন? আইন মহিলাদের পক্ষে যায় বলেই কী যে কোনও পুরুষের বিরুদ্ধেই হেনস্থার অভিযোগ তোলা যায়? এই ঘটনা সত্যিই আমাদের চোখে আঙুল তুলে ফের একবার দেখিয়ে দিল উচ্চশিক্ষিত হলেই আসলে সুশিক্ষিত হওয়া যায় না।





