ভোটের আবহে রাজ্য রাজনীতিতে ফের উত্তেজনার পারদ চড়ছে। দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা—এই সব ইস্যু ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। ঠিক এমনই এক সময়ে প্রাক্তন বিচারপতি তথা বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, খুব শীঘ্রই সামনে আসতে পারে এমন একটি কেলেঙ্কারি, যা রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।
রবিবার ‘পশ্চিমবঙ্গ ঐক্যবদ্ধ ছাত্র যুব সমাজ সংগঠন’-এর ডাকা একটি সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সেই মঞ্চে তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজন্যা হালদার-সহ সংগঠনের একাধিক প্রতিনিধি। যদিও শুরুতেই তিনি স্পষ্ট করে দেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে যাননি। তাঁর বক্তব্য, অরাজনৈতিক আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানো একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেই তিনি ওই মঞ্চে হাজির হয়েছেন।
তবে বক্তব্যের মাঝেই উঠে আসে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর মনোভাব। বিচারপতি থাকাকালীন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক দুর্নীতির মামলার শুনানি করেছিলেন তিনি এবং তদন্তের নির্দেশও দিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়েই অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, তাঁর মতে বর্তমান সরকারের আর ক্ষমতায় থাকা উচিত নয়। যদিও আইনগত কারণে সরকার টিকে রয়েছে, তবুও তিনি আশা প্রকাশ করেন—কয়েক দিনের মধ্যেই কোনও একটি বড় কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসবে।
এরপরই তাঁর মন্তব্য আরও তীব্র হয়ে ওঠে। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, যদি সত্যিই নতুন কোনও কেলেঙ্কারি সামনে আসে, তবে একটানা ৭২ ঘণ্টার বনধ ডাকা উচিত। তাঁর মতে, মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলা প্রয়োজন। এই বক্তব্য স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন ফেলেছে।
আরও পড়ুনঃ Rape*case : ধর্ষ*ণের মাঝেই ভয়ংকর হুমকি—‘তোর দিদির মতো পরিণতি হবে’, অতীতের ঘটনা সামনে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য এলাকাজুড়ে!
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে সংগঠনের তরফে জানানো হয়, ছাত্র ও যুব সমাজের প্রাপ্য অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার বিরুদ্ধেই তাঁদের লড়াই। মঞ্চে উপস্থিত তিলোত্তমার বাবা বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই এখন সবচেয়ে জরুরি। তাঁর মতে, দুর্নীতি বন্ধ হলেই বেকারত্বের যন্ত্রণা অনেকটাই কমবে। সব মিলিয়ে এই বৈঠক রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে।





