রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে ফের উত্তেজনার সুর। আগরপাড়ায় আত্মহত্যা করা প্রদীপ করের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের মুখ খুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যে ছিল একদিকে সাধারণ মানুষকে আশ্বাস, অন্যদিকে বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ। রাজ্যের রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই মন্তব্য নতুন করে উত্তাপ ছড়াতে পারে বাংলার রাজনীতিতে।
বছর সাতান্নর প্রদীপ করের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। তাঁর শেষ চিঠিতে লেখা ছিল—‘আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী এনআরসি।’ এই একটি বাক্যই যেন ফের ফিরিয়ে এনেছে আতঙ্কের সেই ছায়া। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার দুপুরে আগরপাড়ায় প্রদীপবাবুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা থাকতে বাংলায় এনআরসি (NRC) বা এসআইআরের (SIR) নাম করে একজনও প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দিতে দেব না।”
এদিন সভামঞ্চ থেকে বিজেপিকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, “আমি লজ্জিত, একটা রাজনৈতিক দল এত নিচে নামতে পারে! প্রদীপবাবু স্পষ্ট লিখে গিয়েছেন, এনআরসির কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন, তবুও বিজেপি রাজনীতি করছে।” এরপরই তাঁর হুঁশিয়ারি, “এলাকায় বিজেপি নেতারা এলে তাঁদের ঘিরে ধরবেন, বেঁধে রাখবেন, জিজ্ঞাসা করবেন—‘বাবা ঠাকুরদার সার্টিফিকেট নিয়ে আয়, তারপর প্রচারে আসবি।’” তবে সঙ্গে সতর্কবার্তা, “বেঁধে রাখবেন, কিন্তু গায়ে হাত দেবেন না। আমরা কারও গায়ে হাত তোলায় বিশ্বাসী নই।”
অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, “প্রদীপবাবুর মৃত্যুর জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং দেশের মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নামে কেন এফআইআর দায়ের হবে না?” তিনি ঘোষণা করেন, “এখন বাংলায় একটাই দাবি—‘জাস্টিস ফর প্রদীপ কর’। আগামীকাল রাজ্য জুড়ে তৃণমূল এই দাবিতে প্রতিবাদ মিছিল করবে।” নিহতের পরিবারকে তিনি আশ্বাস দেন, “আমরা আপনাদের পাশে আছি, যাঁদের জন্য এই মৃত্যু, তাঁদের জেলে পাঠাবই।”
আরও পড়ুনঃ Supreme Court : “অভিযুক্ত জেলে, তবুও মামলা যেন ঘুমিয়ে থাকে!” — বিচারব্যবস্থার ধীরগতি নিয়ে ফুঁসে উঠল সুপ্রিম কোর্ট! —দেশ জুড়ে আসছে নতুন গাইডলাইন!
এদিনও বিজেপি ও কমিশনকে আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, “অমিত শাহ বা কমিশনের কর্মকর্তারা দেখাতে পারবেন তাঁদের বাবার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আছে?” তাঁর অভিযোগ, “বিজেপি বাংলায় ভোটার তালিকা থেকে প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দিতে কমিশনকে ব্যবহার করছে।” অভিষেকের দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকতে বাংলার একজন নাগরিকেরও নাম বাদ যাবে না। বুকের রক্ত দিয়েও তা রক্ষা করব।” তাঁর এই বক্তব্যে রাজ্যজুড়ে ফের চড়ল রাজনৈতিক পারদ।





