ভারতের বিচারব্যবস্থায় মামলার রায় পেতে বছরের পর বছর কেটে যায়—এমন অভিযোগ নতুন নয়। অনেক সময় অভিযুক্তরা চার্জশিট জমা পড়ার পরও দীর্ঘদিন জেলবন্দি থেকে যান, কারণ চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া শুরুই হয় না। এই দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আর বিলম্ব নয়—ফৌজদারি মামলার বিচারে গতি আনতেই এবার প্রয়োজন সময়সীমা নির্ধারণ।
বুধবার এক গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত জানায়, তদন্তকারী সংস্থা যখনই চার্জশিট বা চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেবে, তখনই চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। আদালতের ভাষায়, “অযথা দেরি আর চলবে না।” বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে এই মন্তব্য উঠে আসে। আদালতের মতে, মামলার বিচারে বিলম্ব মানেই ন্যায়বিচার বিলম্বিত হওয়া—যা গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক।
বিহারের একটি মামলাকে ঘিরে এই পর্যবেক্ষণ। ডাকাতি ও খুনের চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত আমন কুমার এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলবন্দি। তাঁর দাবি, তদন্ত শেষ হলেও চার্জ গঠনের কাজ না হওয়ায় তিনি অযথা আটক রয়েছেন। গত বছর অগস্টে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়, সেপ্টেম্বরে পুলিশ চার্জশিট দেয়, কিন্তু এরপরও তাঁর মামলায় অগ্রগতি হয়নি। নিম্ন আদালত ও পাটনা হাই কোর্ট জামিন না দেওয়ায় শেষমেশ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, এই ধরনের বিলম্ব চলতে পারে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চার্জশিট জমা দেওয়ার পর চার্জ গঠনে দেরি হলে তা শুধু অভিযুক্তের অধিকার লঙ্ঘন নয়, বরং বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা কমায়। তাই দেশব্যাপী একটি নির্দিষ্ট ‘গাইডলাইন’ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা জানায় আদালত। এতে প্রতিটি রাজ্য ও আদালতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চার্জ গঠন বাধ্যতামূলক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ Partha Chatterjee: সব মামলায় জামিন পেয়েও জেলে পার্থ! বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতিতে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী!
এই বিষয়ে সহায়তা করার জন্য সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরাকে ‘অ্যামিকাস কিউরি’ বা আদালতবন্ধু হিসেবে নিয়োগ করেছে। তিনি আদালতকে পরামর্শ দেবেন কীভাবে এই গাইডলাইন বাস্তবায়ন করা যায়। আদালতের ইঙ্গিত, দ্রুতই একটি কাঠামোগত নীতি তৈরি হবে যাতে দেশে কোনও ফৌজদারি মামলায় চার্জ গঠনে অযথা বিলম্ব না ঘটে। বিচার প্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে এই পদক্ষেপ যে ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, তা বলাই যায়।





