দীপাবলির আতশবাজিতে ধোঁয়া-শব্দে ঢাকল শহর, তবু দূষণের তালিকায় নীচেই কলকাতা : দাবি নগরপালের

দীপাবলির রাতে আতশবাজির শব্দে কেঁপে উঠেছে শহর। আকাশ জুড়ে ধোঁয়ার স্তর, বাতাসে পরিষ্কারভাবে টের পাওয়া গেছে পোড়া বারুদের গন্ধ। অনেকেরই অভিযোগ ছিল শহর যেন গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয়েছিল। তবুও কলকাতা অন্য শহরের তুলনায় অনেকটাই দূষণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে বলে দাবি করলেন নগরপাল মনোজ ভর্মা। তাঁর কথায়, দেশের অন্যান্য মহানগরের তুলনায় কলকাতার অবস্থাই সবচেয়ে ভাল।

দীপাবলির আগে থেকেই কলকাতা পুলিশ কড়া নজরদারির বার্তা দিয়েছিল। বিশেষ করে নিষিদ্ধ শব্দবাজি আটকাতে লালবাজার থেকে থানাগুলিতে স্পষ্ট নির্দেশ গিয়েছিল। নিয়ম ভাঙলেই গ্রেপ্তারি, এ হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। উৎসবের দিন সেই নির্দেশ কার্যকরও হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, সোমবার রাত পর্যন্ত নিষিদ্ধ বাজি বিক্রি ও ফাটানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ১৮৩ জনকে। আইন ভাঙার দায়ে আরও ৪৫১ জনকে আটক করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত হয়েছে প্রায় ৮৫২ কেজি নিষিদ্ধ বাজি। পুলিশ কমিশনার নিজেও মাঠে নেমে নজরদারি চালান।

তবু শহরবাসীর অভিযোগ থামেনি। একাধিক মানুষ অভিযোগ জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলেও বাস্তবে শব্দদূষণ ছিল চোখে পড়ার মতো। দক্ষিণ কলকাতার এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘প্রচুর বাজি ফেটেছে। বুঝি উৎসবের আনন্দ, কিন্তু এই শব্দ আর ধোঁয়ার অত্যাচার অত্যন্ত কষ্টদায়ক।’’ উত্তর কলকাতা থেকে আরেকজন জানান, ‘‘রাত বারোটা পেরোনোর পরও বাজি থামেনি। ছোটদের তো ঘুমোতে সমস্যা হচ্ছিল, এমনকি বয়স্ক মানুষদেরও সমস্যা হয়েছে।’’

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই বলছে দূষণের মাত্রার নির্ভুল ছবি। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের মানদণ্ড অনুযায়ী, ৫০ পর্যন্ত একিউআই ভালো, ৫১-১০০ মাঝারি। কিন্তু ১০০ ছুঁলেই দূষণ বৃদ্ধি হিসেবে ধরা হয়। এদিন কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় একিউআই ছিল ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এলাকায় ২২৭, বিধাননগরে ১৯০, বালিগঞ্জে ১৬৬, যাদবপুরে ১৯৮, রবীন্দ্রভারতীর কাছে ১৩৪ এবং বেলুড়ে ১৬৬। অর্থাৎ অধিকাংশ জায়গাতেই দূষণের মাত্রা মাঝারি থেকে খারাপের পর্যায়ে ছিল।

তবুও পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী নগরপাল মনোজ ভর্মা। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমরা সন্ধ্যা পর্যন্ত যে তথ্য পেয়েছি, তাতে দেখা গিয়েছে, দেশের অন্যান্য বড় শহরের তুলনায় কলকাতার দূষণ অনেকটাই কম।’’ তিনি আরও জানান, রাত ১০টা ও ১২টার রিপোর্ট বিশ্লেষণ এখনও বাকি। তবে সামগ্রিকভাবে কলকাতার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ Minor Girl Mysterious De*ath: সঞ্জয় রায়ের ভাগ্নির আকস্মিক মৃ*ত্যু! পরিবারের অজানা অন্ধকার কি দায়ী?

এক দিকে পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, অন্য দিকে অনেকেই নিজেদের মতো বাজি ফাটিয়ে চলেছেন, এই দুইয়ের টানাপোড়েনে শহরবাসী দিশেহারা। উৎসবের আনন্দ যেমন ছিল, তেমনই ছিল দূষণের আতঙ্ক। প্রশ্ন উঠছে, সচেতনতার বার্তা কি সত্যিই পৌঁছচ্ছে মানুষের কাছে? শুধুই আইন করে কি দূষণ রোখা সম্ভব? আগামী দিনে কলকাতা কোন পথে হাঁটে, সেদিকেই এখন নজর।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles