লোকসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ কর্মসূচি, ব্রিগেডের মাঠে এবার লক্ষ মানুষের কণ্ঠে হবে গীতা পাঠ

আগামী বছরই লোকসভা নির্বাচন। এখন সমস্ত রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য একমাত্র সেদিকেই। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে নানান প্রস্তুতি। আর ব্রিগেড মানেই রাজনৈতিক দলের শক্তি প্রদর্শনের জায়গা। এবার কলকাতার সেই ব্রিগেডের মাঠে শোনা যাবে গীতা পাঠ। লক্ষ লক্ষ কণ্ঠে ধ্বনিত হবে এই ধর্মগ্রন্থের শ্লোক। এমনই আয়োজন করা হল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসের শাখা অখিল ভারত সংস্কৃত পরিষদের তরফে।

কবে হবে এই কর্মসূচি?

কলকাতার ব্রিগেডের মাঠে ১ লক্ষ কন্ঠে শোনা যাবে গীতা পাঠ। এর মাধ্যমেই সনাতনী হিন্দু সংস্কৃতি বোধকে জাগরিত করার উদ্য়োগ নিয়েছে অখিল ভারতীয় সংস্কৃত পরিষদ। আগামী ২৪ ডিসেম্বর এই অনুষ্ঠান হবে। প্রায় তিন ঘণ্টা এই গীতা পাঠ চলবে। এই আসরে উপস্থিত থাকতে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে দ্বারকার শংকরাচার্য, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, মুখ‌্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। রাজ‌্যপাল সিভি আনন্দ বোসের কাছেও আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হচ্ছে  বলে খবর। 

এই বিষয়ে অখিল ভারতীয় সংস্কৃত পরিষদের তরফে গৌরব মহারাজ বলেন, “গীতার প্রধান পাঁচটি অধ্যায় পাঠ করব। মোট তিন ঘণ্টা চলবে। এক লক্ষ সমবেত কন্ঠে এই পাঠ হবে। প্রথমে ঠিক করেছিলাম রাষ্ট্রপতি ও দ্বারকা শঙ্করাচার্যকে আমন্ত্রণ জানাব। পরে আরও কয়েকজন ঠিক হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে তো আমরা জানাবই। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ থেকেও মানুষ আসবেন। ৫-৭ হাজার লোক বাইরে থেকে আসবেন। ২৪ ডিসেম্বর গীতা জয়ন্তীর মধ্যে এটা হবে”।

এই কর্মসূচিতে রাজনৈতিক যোগ দেখছে বিরোধীরা

ব্রিগেডে গীতাপাঠের এই কর্মসূচি সম্পর্কে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “পশ্চিমবাংলার রাজনীতিকে ধর্মান্ধতায়, সাম্প্রদায়িকতায় ভরিয়ে দেওয়ার জন্য বিজেপি প্রস্তুত। ওদের সেটাই কাজ। আর এই বিজেপিকে প্রশ্রয় দিয়ে পশ্চিমবাংলায় টেনে এনেছে তৃণমূল। আরএসএসকে দেশপ্রেমিকও আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই বলেছেন। ফলে আরএসএস এগুলো করবে কি না জানি না। তবে এসব যখনই হবে মানুষ জানতে চাইবে বছরে ২ কোটির চাকরির প্রতিশ্রুতি কোথায় গেল”?

অন্যদিকে, তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের কথায়, “গীতাকে রাজনীতির মধ্যে ফেলবেন না। আর লক্ষ কন্ঠ কেন? গীতা তো কোটি কন্ঠে ধ্বনিত হয়। আরএসএস কি গীতাকে সঙ্কুচিত করে ফেলছে”?

RELATED Articles