জীবনের একটা মোড়ে দাঁড়িয়ে যদি কেউ বলে—‘বিচার পেতে সময় লাগবে’, সেটা হয়তো অনেকের কাছে স্বাভাবিক মনে হতে পারে। কিন্তু সেই অপেক্ষা যদি দীর্ঘ হয়? যদি একজন নিরপরাধ মানুষ দিনের পর দিন আদালতের চক্কর কাটেন শুধুমাত্র প্রমাণের অভাবে, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—এই বিচার ব্যবস্থা কার জন্য? এমন পরিস্থিতিতে আজও দেশের অনেক মানুষ বিশ্বাস রাখতে চায়, অন্তত আইনের হাত যথেষ্ট লম্বা। তবে সেই হাত যদি প্রযুক্তির সঙ্গে হাত মেলায়, তবেই হয়তো দ্রুত, নির্ভুল এবং প্রমাণসমর্থিত বিচার পাওয়া সম্ভব।
আধুনিক দুনিয়ায় অপরাধের ধরনও বদলে গেছে। আগে যেখানে একটা খুন বা ডাকাতি ছিল বড় খবর, এখন সাইবার অপরাধ, ডিজিটাল জালিয়াতি বা অ্যাপ মারফত প্রতারণাই হয়ে উঠেছে বড় মাথাব্যথা। আর সেই অপরাধীদের ধরতে হলে শুধু প্রথাগত পদ্ধতিতে চললে চলবে না, প্রয়োজন বিজ্ঞানভিত্তিক অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ। এমন পরিস্থিতিতেই দেশের আইন ব্যবস্থায় আমূল বদল ঘটানোর বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
শনিবার কলকাতার রাজারহাটে কেন্দ্রীয় ফরেন্সিক বিজ্ঞান ল্যাবরেটরির উদ্বোধন করলেন অমিত শাহ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রমাণই হবে মূল অস্ত্র। প্রযুক্তির সাহায্য ছাড়া এখন অপরাধীদের ধরাই প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।’’ এই সেন্টার তৈরি হয়েছে বায়োলজি, ডিএনএ, সাইবার, নারকোটিক্স, মনোবিজ্ঞান-সহ একাধিক আধুনিক বিভাগ নিয়ে। শুধু তাই নয়, প্রতিটি থানাতেই প্রযুক্তি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে ফরেন্সিক ব্যবস্থার পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রায় ১৬০ বছরের পুরনো ভারতীয় দণ্ডবিধির বদলে এবার এসেছে নতুন আইন। অমিত শাহ জানিয়েছেন, এখন থেকে ৭ বছরের বেশি সাজাযোগ্য অপরাধে ফরেন্সিক তদন্ত বাধ্যতামূলক। এমনকি ৬০ দিনের মধ্যে চার্জশিট দাখিলের ব্যবস্থাও কার্যকর হয়েছে বহু জায়গায়। ইতিমধ্যেই ১৭ হাজারের বেশি থানায় বসেছে সিসিটিভি ক্যামেরা। অপরাধী দেশ ছেড়ে পালালেও রেহাই পাবে না—এই মর্মে আন্তর্জাতিক স্তরে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মোবাইল ফরেন্সিক, অ্যাপ ট্রেসিং, সাইকোলজিক্যাল অ্যানালাইসিস—সবই যুক্ত হয়েছে ন্যায়বিচার পাওয়ার লড়াইয়ে।
আরও পড়ুনঃ TMCP : অনুব্রত মণ্ডলের পথেই TMCP নেতার তোপ, বোলপুর থানার আইসিকে দুর্নীতিগ্রস্ত বললেন বিক্রমজিৎ!
অনুষ্ঠানের শেষে অমিত শাহ বলেন, ‘‘আমাদের লক্ষ্য নির্দোষকে রক্ষা করা এবং অপরাধীকে উপযুক্ত সাজা দেওয়া। সন্দেহ নয়, প্রমাণ-ই হবে বিচার ব্যবস্থার ভিত্তি।’’ তাঁর মতে, আইন শুধু লিখিত কাগজে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বাস্তবে তার প্রয়োগও জরুরি। তাই প্রতিটি পুলিশ অফিসার ও আদালতের কর্তার কাছে প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরা হবে। শাহ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘‘এই শতাব্দীতে অপরাধীরা স্মার্ট, তাই আমাদের আরও স্মার্ট হতে হবে। অপরাধীদের থেকে অন্তত দুই কদম এগিয়ে না থাকলে, আমরা উন্নয়নের কথা ভাবতেই পারব না।’’





