প্রতিবারই ঈদের নামাজের আনন্দে ভরে ওঠে কলকাতার রেড রোড। হাজারো মানুষ একসাথে মিলিত হয়ে মহান এই উৎসব উদযাপন করে, যেখানে থাকে উল্লাস, একাত্মতা এবং শান্তির বার্তা। এই জমায়েত শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং একটি সামাজিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। অনেকেই এই দিনটিকে বয়সের ছাড়পত্র হিসেবে নেন, যেখানে তারা দীর্ঘ সময় পর পরিবারের সবাইকে সাথে পেয়ে আনন্দে ভাসে।
কিন্তু এই বছর ঈদের দিন রেড রোডের সেই পরিচিত চিত্র কি একই থাকবে? লোকজনের উৎসাহ, জমায়েতের প্রস্তুতি, আর সেই আনন্দঘন মুহূর্তের অপেক্ষায় অনেকেই ছিল। কেউ কেউ ইদ উদযাপনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন পরিকল্পনা, নতুন রুট বা স্থানান্তরের কথা ভাবছেন। তবে কি সেখানে কোনো পরিবর্তন আসছে? এমন প্রশ্ন অনেকের মনে জাগছে, যাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান।
গতকাল কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং কর্নেল ভূমি স্বাক্ষরিত একটি চিঠি প্রকাশিত হয়েছে। ওই চিঠিতে জানানো হয়েছে, এই বছর ঈদের দিন (৭-৮ জুন) রেড রোড এবং সংলগ্ন অঞ্চল ‘সামরিক প্রয়োজন’ এর কারণে ব্যবহৃত হবে। অর্থাৎ, সেই এলাকায় কোনো বড় জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হবে না। সেনাবাহিনী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিরাপত্তার দিক থেকে।
কলকাতার খিলাফত কমিটি এই সিদ্ধান্তকে অস্বীকার করেনি, বরং তারা এর বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছে। কমিটির সদস্যরা বলছেন, ধর্মীয় উৎসবের জায়গা কি সামরিক প্রয়োজনের সঙ্গে সমন্বয় করে বন্ধ করা উচিত? তারা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তারা আশ্বস্ত করেছেন, তারা বিষয়টি নিয়ে আইনগত এবং সামাজিক পর্যায়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন।
আরও পড়ুনঃ Amit Shah : ‘১৬০ বছরের পুরনো আইন বদলেছে, এখন থেকে প্রমাণই হবে বিচারকের চোখ’—নতুন দণ্ডবিধিতে বার্তা অমিত শাহের
তবে এই সিদ্ধান্তে অনেক মানুষের মধ্যে সংশয় ও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। যারা রেড রোডে ইদের নামাজে অংশগ্রহণের জন্য পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা কী হবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। সামরিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিকল্প স্থান বা নির্দেশনা এখনো প্রকাশিত হয়নি। আগামী দিনগুলোতে এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য আশা করা হচ্ছে।





