কলকাতার কেওড়াতলা শ্মশানকালী মন্দির শুধু ধর্মীয় স্থান নয়, বরং এটি এক রহস্যময় কাহিনিরও জন্মস্থান। প্রতি বছর ভক্তরা এখানে সমবেত হয়ে দেবী কালী ও কৃষ্ণকালীকে প্রণাম করেন। তবে এই মন্দিরের বিশেষত্ব কেবল পুজোর আয়োজনে নয়, বরং দেবীর সঙ্গে জড়িত ভিন্নরকম আচার-অনুষ্ঠান ও ইতিহাসে।
এই মন্দিরে পুজোর ইতিহাস প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো। কথিত আছে, যিনি প্রথম এই কালীমূর্তি তৈরি করেছিলেন, তারই বংশপরম্পরায় আজও প্রতিমা নির্মাণ হয়। একইভাবে, যে পুরোহিত প্রথম পুজো করেছিলেন, তাঁর বংশধররাও এখনও দেবীর পূজার দায়িত্বে রয়েছেন। তাই মন্দিরের প্রতিটি আচার সম্পূর্ণ রূপে ঐতিহ্যবাহী ও প্রামাণিক।
কেওড়াতলা কালী মন্দিরের সবচেয়ে অদ্ভুত এবং রহস্যময় দিক হল, এখানে পুজোর সময় শ্মশানের শবপ্রক্রিয়া ও দেবীর পুজো একসাথে চলে। কথিত আছে, দেবী এতটাই জাগ্রত যে পুজোর সময় নিশ্চিতভাবে কোনও না কোনও মৃতদেহ কাঠের চিতায় আগুন দেওয়ার জন্য আসে। এ সময় একদিকে শবদাহ চলতে থাকে, অন্যদিকে শুরু হয় দেবীর পুজো। এই পুজো সম্পূর্ণ তন্ত্রমতে এবং বীরাচার তন্ত্র অনুসারে পরিচালিত হয়।
পুজোর সময় এখানে মোট ২২ থেকে ২৫টি ছাগ বলি দেওয়া হয়। এর মধ্যে দুটি ছাগ মন্দির কমিটি দেয়, বাকি ২০টি ভক্তরা যারা মনস্কামনা পূরণ হয়েছে তাদের কাছ থেকে আসে। বলির মাংসই রান্না করে দেবীকে নিবেদন করা হয়। সঙ্গে দেবীর জন্য ৬০০ কিলো চাল ও ডালের ভোগ হয়। দেবীর মূর্তির জিভ বাইরে বের হয় না, কারণ পুরাণমতে দেবী অসুরবধের পর শ্মশানে বিশ্রাম নেন এবং তখনই সুরা-মাংস গ্রহণ করেন। এই শান্ত রূপকেই মূর্তিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Harassment : ঘরে ঢুকে নি*র্যাতন, থানায় যেতে বাধা দিল তৃণমূল! শেষ পর্যন্ত গৃহবধূর পাশে দাঁড়ালেন বিজেপি বিধায়ক!
শ্মশানকালীর পাশাপাশি এখানে কৃষ্ণকালী দেবীরও পূজা হয়। দেবী চতুর্ভুজা, এক হাতে খড়গ আর অন্য হাতে চাঁদমালা। সামনের দুটি হাতে বাঁশি রয়েছে, রঙ নীল ও শ্যামবর্ণ। কথিত আছে, আনন্দঋষি প্রায় ১৫০ বছর আগে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং অনাথানন্দ নামে আরেক ভক্ত দীর্ঘদিন সাধনা করেছিলেন। শ্মশানে পঞ্চমুণ্ডির আসনে সাধকরা সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছেন। পুজোর শেষে ভোগ স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিতরণ করা হয়।





