‘চোর, গরুচোর’, এসএসকেএম থেকে বেরোতেই অনুব্রতকে কটাক্ষ রোগীর পরিজনের, ‘ন্যাড়া করে লাঠি দিয়ে মারা উচিত’, দিলেন শাস্তির নিদানও

আজ, সোমবার সিবিআই (CBI) দফতরে হাজিরা দেওয়ার কথা থাকলেও, তিনি গিয়েছিলেন এসএসকেএমে শারীরিক পরীক্ষার জন্য। অবশ্য একথা আগেই জানিয়েছিলেন বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandal)। পরীক্ষানিরীক্ষা শেষে হাসপাতাল থেকে বেরোনোর সময়ই ঘটে গেল এক আকস্মিক ঘটনা। আচমকাই এক রোগীর পরিজন অনুব্রতকে উদ্দেশ্য করে ‘গরুচোর গরুচোর’ বলে স্লোগান দিয়ে ওঠেন।

আজ গরু পাচার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুব্রত মণ্ডলকে নিজাম প্যালেসে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেয় সিবিআই। তবে গতকাল, রবিবার তিনি ইমেল মারফৎ সিবিআইকে জানান যে তাঁর আজ এসএসকেএমে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার রয়েছে। তাই তিনি হাজিরা দিতে পারবেন না। তাঁর আইনজীবী সিবিআইকে জানান যে অনুব্রত অসুস্থ তাই তিনি হাজিরা দিতে পারবেন না।

আজ এসএসকেএমে নানান শারীরিক পরীক্ষানিরীক্ষা হয় অনুব্রতর। তবে চিকিৎসরা জানান যে তাঁকে ভর্তি রাখার কোনও প্রয়োজন নেই। তাই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর হাসপাতাল থেকে বেরোতেই ‘গরুচোর’ বলে কটাক্ষ করা হয় তাঁকে। যে ব্যক্তি এই কটাক্ষ করেছেন তাঁর নাম নাসির। জানা গিয়েছে, তিনি হাওড়ার বাসিন্দা। কিন্তু কেন এমন কতাক্ষ করলেন তিনি?

উত্তরে নাসির বলেন, “গ্রামে কোনও গরুচোর ধরলে, পঞ্চায়েত প্রধান বা সদস্যরা যেভাবে বিচার করে, তাকে ধরে গাছের গোড়ায় বাঁধে কিংবা লাঠি দিয়ে মারে! ওনাকেও এরকম করা উচিত। এরকম করলেই বুঝতে পারবে, আমি কতটা গরুচোর! কীভাবে গরু চুরি করেছি! জনসাধারণের টাকা নিয়ে…সবাই চোর”।

এখানেই শেষ নয়। তৃণমূল নেতাকে কীভাবে শাস্তি দেওয়া উচিত, সেই উপায়ও বাতলে দিয়েছেন নাসির। তাঁর কথায়, “ধরতে পারলে জনসাধারণের যেরকম বিচার হয়, ন্যাড়া করে ছেড়ে দেওয়া হয়, লাঠি দিয়ে মারা হয়, সেই বিচারটাই ওনাদের চাই। তাহলেই বুঝবে”।

বলে রাখি, ভোট পরবর্তী হিংসা এবং গরুপাচার-মামলায় এ বারেরটা ধরলে, মোট ন’বার তলব করা হল অনুব্রতকে। তিনি হাজিরা দিতে পারবেন না বলে জানালেও সিবিআই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল যে সোমবার এসএসকেএম থেকে বেরিয়ে নিজাম প্যালেসে তাদের দফতরে আসতে হবে অনুব্রতকে। কিন্তু এদিন এসএসকেএম থেকে নিজাম প্যালেসে না গিয়ে সোজা নিজের চিনার পার্কের ফ্ল্যাটে চলে যান তৃণমূল নেতা। এবার সিবিআই তাঁর বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।

RELATED Articles