নতুন কাজের খোঁজে ঘর ছাড়েন বহু যুবক-যুবতী। কেউ খুঁজছেন বড় শহরে পা রাখার সুযোগ, কেউ বা আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরানোর পথ। কিন্তু সেই আশার পথ যে কখন বিভীষিকায় পরিণত হতে পারে, তা কে-ই বা জানে! সম্প্রতি সোদপুরের এক যুবতী (পরিবর্তিত নাম) কাজের খোঁজে বেরিয়ে পড়ে এমনই এক নরকযন্ত্রণা সহ্য করতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ওই যুবতী। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দুই জেলাজুড়ে।
২৪ বছরের ওই যুবতী, পেশায় ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কর্মী। সোদপুরের সুখচর ৩ নম্বর দেশবন্ধু নগরের বাসিন্দা, সম্প্রতি নিজের এলাকায় কাজ পাচ্ছিলেন না। এই অবস্থায় আরিয়ান খানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। অভিযোগ, আরিয়ান তাঁকে ইভেন্ট সংক্রান্ত আকর্ষণীয় কাজের লোভ দেখিয়ে হাওড়ায় ডেকে পাঠায়।
কিন্তু অভিযোগ, কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁকে এক পানশালায় কাজ করতে বাধ্য করার চেষ্টা চালানো হয়। তাতে রাজি না হওয়ায় শুরু হয় অকথ্য অত্যাচার। আরিয়ান ও তার মা স্বেতা খান মিলে যুবতীকে নিজেদের বাড়িতে আটকে রাখে। দিনের পর দিন তাঁকে গৃহকর্মে নিযুক্ত করা হয়। প্রতিবাদ করলেই শুরু হয় শারীরিক অত্যাচার। মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়, লোহার রড দিয়ে শরীর ও গোপনাঙ্গে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
অভিযোগ, দিনের পর দিন চলে এই পাশবিক অত্যাচার। একাধিকবার তাঁকে যৌন নিপীড়নের শিকারও হতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সুযোগ বুঝে ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে নিজের বাড়িতে ফেরেন যুবতী। ঘটনার কথা পরিবারের কাছে জানাতেই সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা খড়দহ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। গুরুতর চোটে জর্জরিত যুবতীকে ভর্তি করা হয় সাগর দত্ত হাসপাতালে। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
আরও পড়ুনঃ Weather update: গরমে হাঁসফাঁস দক্ষিণবঙ্গ, দুপুর গড়াতেই নামবে বৃষ্টি! কিন্তু সোমবার থেকে তাপমাত্রার বড় পরিবর্তন!
যুবতীর পরিবারের দাবি, আরিয়ান ছিলেন হাওড়ার ডোমজুড় থানার বাঁকড়া এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে সোদপুরের যুবতী (পরিবর্তিত নাম) এই ঘটনায় কেবল শারীরিক নয়, মানসিকভাবেও চূড়ান্ত ভেঙে পড়েছেন তিনি। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে পরিবার। পুলিশ সূত্রে খবর, খড়দহ ও ডোমজুড় থানার যৌথ উদ্যোগে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। তবে এই ঘটনার পর কাজের লোভ দেখিয়ে নারী পাচার ও নির্যাতনের চক্র নিয়ে ফের একবার প্রশ্ন উঠেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।





