একসময় ছোট পর্দা দিয়ে অভিনয় জীবনের শুরু, পরে বড় পর্দাতেও নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছেন অরিত্র দত্ত বণিক। ২০০৩ সালে ‘তিথির অতিথি’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে দর্শকের সামনে আসেন তিনি। এরপর একের পর এক জনপ্রিয় ছবিতে কাজ করে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন। ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’, ‘পরান যায় জ্বলিয়া রে’ এবং ‘খোকা বাবু’ ছবিতে তাঁর অভিনয় নজর কেড়েছিল। বিশেষ করে দেবের সঙ্গে তাঁর জুটি দর্শকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন শো-তেও অংশ নিয়ে তিনি ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। আজও তাঁর সেই জনপ্রিয়তা অটুট রয়েছে।
শুধু অভিনেতা হিসেবেই নয়, সঞ্চালক হিসেবেও তিনি নিজের দক্ষতা দেখিয়েছেন। ‘ড্যান্স বাংলা ড্যান্স’-এর মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের বেশ পছন্দ হয়েছিল। বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি ভিডিও এডিটিং এবং কালার কারেকশনের মতো প্রযুক্তিগত কাজেও মন দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়েও খোলামেলা মতামত দেন। সমাজমাধ্যমে তিনি বেশ সক্রিয় এবং নিজের বক্তব্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। এই কারণে মাঝেমধ্যেই তাঁর মন্তব্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তাঁর অনুগামীরাও সেই পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানান।
এই অবস্থাতেই ২৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে একটি ঘটনা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ব্যারাকপুরের রাস্তায় নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে যাওয়ার সময় পুলিশ তাঁকে আটকায় বলে অভিযোগ। বলা হয়, নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে তাঁর গাড়ি নেওয়া হবে। কিন্তু তাঁর দাবি, কোনও লিখিত নির্দেশ বা পরিষ্কার কারণ দেখানো হয়নি। সমস্ত বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও গাড়ি আটকানো নিয়ে সেখানেই উত্তেজনা তৈরি হয়। ঘটনাস্থলে থাকা এক পুলিশ কর্মীর নাম হিসেবেও একটি নাম উঠে এসেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তর্কাতর্কি শুরু হয়।
ঘটনার পরেই অরিত্র একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। সেখানে তিনি সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং পুলিশের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও নিয়ম না মেনে ব্যক্তিগত গাড়ি আটকানো ঠিক নয়। তিনি এটিকে অন্যায় এবং জোরজবরদস্তি বলে উল্লেখ করেন। সাধারণ মানুষকেও এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। ভিডিওটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই সেটি শেয়ার করেন। ফলে বিষয়টি আরও বেশি মানুষের নজরে আসে।
আরও পড়ুনঃ West Bengal assembly election 2026 : ভোটের আগে বাস্তবের মুখোমুখি! প্রচারে গিয়ে মানুষের একের পর এক অভিযোগে স্বীকারোক্তি তৃণমূল প্রার্থীর! ‘সব কাজ হয়নি’ তাহলে এতদিন কোথায় ছিল প্রশাসন, আর কেনই বা উপেক্ষিত রইল সাধারণ মানুষের সমস্যা?
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নেটমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই এই ঘটনার সমালোচনা করেছেন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ বলেছেন, এভাবে ব্যক্তিগত সম্পত্তি নেওয়া ঠিক নয়। আবার কেউ পুলিশের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। আইনশৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন দেখার, এই অভিযোগের পর প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়।





