I PAC : “মুখ্যমন্ত্রীই যদি তদন্তে বাধা দেন, তবে ইডি যাবে কোথায়?” সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নে চাপে রাজ্য, আই-প্যাক মামলায় শাসকদলের ভূমিকা ঘিরে তীব্র বিতর্ক!

রাজনীতির উত্তাপ যখন ক্রমশ বাড়ছে, ঠিক তখনই আইনের মঞ্চে উঠে এল এমন এক বিতর্ক, যা শুধু একটি মামলার সীমা ছাড়িয়ে বৃহত্তর সাংবিধানিক প্রশ্নের দিকে ইঙ্গিত করছে। কে কার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে পারে, আর কোথায় গিয়ে সেই অভিযোগের বিচার হবে এই নিয়েই তৈরি হয়েছে জটিল পরিস্থিতি। সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে এই বিতর্ক যেন নতুন মাত্রা পেল মঙ্গলবার।

আই-প্যাক মামলার শুনানিতে এদিন মূল প্রশ্ন উঠে আসে একটি সরকারি সংস্থা কি আদৌ মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষের আইনজীবী কপিল সিবাল স্পষ্টভাবেই বলেন, ইডি কোনও ব্যক্তি নয়, বরং একটি ডিরেক্টরেট। তাই সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় সরাসরি মামলা করার অধিকার তাদের নেই। এই যুক্তির মধ্যেই তিনি প্রশ্ন তোলেন, মৌলিক অধিকার তো ব্যক্তিকেন্দ্রিক তাহলে সংস্থা কীভাবে সেই দাবি করতে পারে?

বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি এন ভি অঞ্জারিয়ার বেঞ্চ কিন্তু এই যুক্তি সরাসরি মেনে নেয়নি। তাঁদের পর্যবেক্ষণ ছিল, আইনের শাসন নিজেই একটি মৌলিক নীতি। ফলে সেটি লঙ্ঘিত হলে তা আদালতের নজরে আনা যেতেই পারে। এখানেই উঠে আসে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন যদি কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তদন্তে বাধা দেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা কোথায় যাবে? সেই রাজ্যের কাছেই কি প্রতিকার চাইতে হবে? এই প্রশ্নেই কার্যত চাপে পড়ে সিবালের যুক্তি।

শুনানির সময় লাদাখের পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের ঘটনাও টানা হয় যুক্তির খাতিরে। এর মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা হয়, মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন সবসময় সরাসরি ব্যক্তিগত উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে না। যদিও সিবাল পাল্টা বলেন, কেউ ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলে তার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্নই ওঠে না। তিনি আরও দাবি করেন, ইডির আধিকারিকরা কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী তাই তাঁদের ক্ষতি মানেই সংস্থার মৌলিক অধিকার ভঙ্গ নয়।

আরও পড়ুনঃ “সব কাগজপত্র আছে…আমার গাড়ি, ওরা বলছে নিয়ে নেবে!” বাংলায় নির্বাচনের অজুহাতে গাড়ি আটক পুলিশের! ঘটনাস্থলেই অভিযোগে সরব অরিত্র দত্ত বণিক! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে, সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া!

পুরো শুনানির শেষে স্পষ্ট উত্তর মেলেনি, বরং প্রশ্নই যেন আরও ঘনীভূত হয়েছে। ইডি কি শুধুই একটি তদন্তকারী সংস্থা, নাকি বিশেষ পরিস্থিতিতে তারা মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন তুলতে পারে এই বিতর্ক এখন আদালতের বিচারের অপেক্ষায়। আর তার মাঝেই উঠে আসা সেই এক প্রশ্ন রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধেই যদি অভিযোগ থাকে, তাহলে ন্যায়বিচারের পথ ঠিক কোথায়? এই জটিল সমীকরণের উত্তরই এখন সবার নজরে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles