West Bengal: সরকারি অনুমোদন ছাড়াই রুটে রুটে অটোর ভাড়া বৃদ্ধি! জ্বালানির অজুহাত দেখাচ্ছেন চালকরা, চাপে পড়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন যাত্রীরা!

রান্নাঘরের খরচ বেড়েছে অনেক দিনই। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংসারের হিসেবও বারবার নতুন করে কষতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। কিন্তু সেই চাপ যে এবার ঘরের বাইরে, রাস্তাতেও এসে পড়বে— তা অনেকেই হয়তো ভাবেননি। গত কয়েক দিনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক এলাকায় যাতায়াতের খরচ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় নিত্যযাত্রীদের মধ্যে অস্বস্তি বাড়ছে।

যাত্রীদের দাবি, হঠাৎ করেই বিভিন্ন রুটে অটোর ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গড়িয়া–বারুইপুর, সোনারপুর–গড়িয়া, বারুইপুর–জুলপিয়া এবং বারুইপুর–দক্ষিণ বারাসত-সহ একাধিক রুটে ভাড়া বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কোথাও ৫ টাকা, কোথাও আবার ১০ টাকা বা তারও বেশি বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের কথায়, কোনও সরকারি ঘোষণা ছাড়াই রাতারাতি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ করলে অনেক ক্ষেত্রেই চালকদের কাছ থেকে সোজাসাপটা উত্তর মিলছে— জ্বালানির দাম বেড়েছে, তাই ভাড়াও বাড়বে।

অটোচালকদের একাংশ অবশ্য এই বাড়তি ভাড়ার পেছনে অন্য যুক্তি দিচ্ছেন। তাঁদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে এলপিজি (LPG) গ্যাসের দাম বেড়েছে এবং পাম্পে গিয়েও চাহিদা মতো গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক সময় অতিরিক্ত দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। আগে যেখানে প্রতি লিটার গ্যাস ৭০–৭৫ টাকায় পাওয়া যেত, এখন কেউ ১২০, কেউ ১৩০, আবার কোথাও ১৫০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে বলে অভিযোগ। এই বাড়তি খরচ সামলাতেই যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া নিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে দাবি চালকদের।

এই পরিস্থিতিতে নিত্যযাত্রীদের সমস্যাও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জুলপিয়া রুটের যাত্রী সবিতা পরামাণিক জানান, আগে তিনি ১৭ টাকা ভাড়া দিতেন, কিন্তু বুধবার থেকে তাঁকে ২৫ টাকা দিতে হচ্ছে। একই অভিযোগ জুলপিয়া–আমতলা রুটের যাত্রী বলাই দাসেরও। তাঁর কথায়, আগে যেখানে ১৫ টাকা ভাড়া ছিল, এখন চালকেরা ২৫ টাকা দাবি করছেন। ফলে প্রতিদিন যাতায়াতের খরচ হঠাৎ করেই অনেকটাই বেড়ে গেছে।

আরও পড়ুনঃ West Bengal: বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের কাজ নিয়েও প্রশ্ন! আদালতেই রাজ্যের যুক্তিতে বিরক্ত প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত—ট্রাইবুনাল গঠনের পথ দেখাল সুপ্রিম কোর্ট!

পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে অন্য একটি কারণে। অনেক চালকের দাবি, গ্যাসের জোগান অনিয়মিত হওয়ায় বহু রুটে অটোর সংখ্যাও কমে গেছে। গ্যাস পেতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে বলে অনেকে গাড়ি নামাচ্ছেন না। অটো ইউনিয়নের নেতারা অবশ্য বলছেন, তাঁরা বাড়তি ভাড়া নেওয়ার পক্ষে নন। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি এমন যে যাত্রীদের অনেক ক্ষেত্রেই বাড়তি ভাড়া দিয়েই গন্তব্যে পৌঁছতে হচ্ছে। ফলে হেঁশেলের পর এবার পথেও বাড়তি খরচের চাপ অনুভব করছেন সাধারণ মানুষ।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর