সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন ভাইরাল তিনটি ফোটো! হেন কেউ নেই যে এই ছবিগুলো কাল থেকে দেখেনি। ধর্মতলার শ্রীলেদার্সে রবিবার বিকালে জুতো কেনার হিড়িক! পুজো আসছে যে!ধর্মতলা সহ নিউ মার্কেটে এবার ব্যবসায়ীদের তরফ থেকে আশা করা হয়েছিল ভিড় কম হবে। কিন্তু তাদের মুখে হাসি ফুটিয়ে ,সচেতন জনগণের আতঙ্ক বাড়িয়ে পুজোর মরশুমে এসপ্লানেডে বাঙালি করোনাকে তখন কাঁচকলা দেখাচ্ছে। শ্রীলেদার্সের ছবিতে অনেকেরই মাস্ক আছে, কিন্তু তা কানের দুল, গলায় মাফলার হিসাবে রয়েছে! ৬ ফুট দূরত্ব? সেটা কি খায় না মাথায় দেয়? মাছি গলার জায়গা নেই!

বাঙালি পুজোর আগে কেনাকাটা করতে ধর্মতলা যাবেই। আর জুতো কিনতে যাবে ধর্মতলা শ্রীলেদার্সে। প্রতিবছরই পুজোর আগে জুতোর দোকানের প্রধান ব্রাঞ্চ ধর্ম তলায় পাগল করা ভিড় হয়। এবার করোনার প্রকোপে শ্রীলেদার্সের তরফ থেকে মনে করা হয়েছিল ব্যবসা বোধহয় মন্দা যাবে। তবে বাঙালি এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে ছেড়েছে। কথায় বলে না হুজুগে বাঙালি!

এই ছবি দেখে নেটিজেনদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছে আবার অনেকে গোটা ব্যাপারটিকে সমর্থন করছেন! বিশিষ্ট লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায় যেমন লিখেছেন, ” শ্রীলেদার্সে! ছবি দেখে বাকরুদ্ধ! এ যেন মরলে মরব, তবু খালি পায়ে মরব না। যায় যদি যাক প্রাণ, শ্রীলেদার্স ঘুরে যান!”

আমার কোন বুদ্ধিজীবী সম্পূর্ণ উল্টো সুরে গাইছেন! প্রখ্যাত গায়ক দেবদীপ মুখোপাধ্যায় এর স্ত্রী অ্যাডামাস ইউনিভার্সিটির বাংলার প্রফেসর সংহিতা স্যান্যাল এর বক্তব্য, মানুষ যথেষ্ট সাবধান হয়ে ঘুরছেন! নিজেদের ভালো পাগলেও বোঝে, তাই বাঙালিকে প্রাণের উৎসব উদযাপন করতে দিতে নীতি পুলিশি করার কোন দরকার নেই! অনেকেই তার মতামতকে সমর্থন করলেও অনেকে কিন্তু এর বিরোধিতাও করেছেন।
এই সময়ে বুদ্ধিজীবীদের এগিয়ে আসতে হবে কারণ তাদের অনেক মানুষ অনুসরণ করেন। তারা যদি বর্তমান ঘটনার গুরুত্ব বোঝান তাহলে হয়তো অনেকটাই শুধরাবে বাঙালি। কারণ এখনো কিন্তু সেকেন্ড ওয়েভ সেভাবে আসেনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো হাতজোড় করে অনেকেই অনুরোধ করছেন যে, এই বছর না হয় পুজোর কেনাকাটা নাই হলো, বেরোনো খাওয়া-দাওয়া না হয় বন্ধ থাকল, তাতে মহাভারত অশুদ্ধ হবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে পুজোর পর শীতের শুরু হচ্ছে। তখন আসবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ, যার শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য কিন্তু মারাত্মক হবে। কারণ শীতকাল হলো সর্দি কাশি শ্বাসকষ্টের আঁতুড়ঘর। করোনা কিন্তু এখন রূপ বদলে ফেলেছে। ইউনাইটেড কিংডম এর মত বেশ কিছু দেশে সেকেন্ড ওয়েভ এসে গিয়েছে। নিউজিল্যান্ড করোনা মুক্ত হয়ে গিয়েছিল কিন্তু সেখানে আবার ফিরে এসেছে করোনা।একশো বছর আগের স্প্যানিশ ফ্লু-তেও এই সেকেন্ড ওয়েভেই মৃত্যু হয়েছিল কোটি কোটি মানুষের।
তাই হাত জোড় করে সকলের কাছে অনুরোধ, পুজো আবার আসবে। এখন বেঁচে থাকাটাই আসল কথা। ক্ষণিকের আনন্দ এর জন্য আপনি না হয় বেঁচে গেলেন। কিন্তু যারা শ্বাসকষ্টের রোগী বা বয়স্ক অথবা অল্প বয়সী তারা কিন্তু ধাক্কাটা সামলাতে পারবেন না। নিজের আনন্দের জন্য অন্যকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেবেন না।





