গত সপ্তাহ থেকে উত্তরপ্রদেশের হাথরাসের দলিত কিশোরী মনীষা বাল্মিকীকে গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে গোটা দেশ উত্তাল। এর উপর যোগ হয় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও প্রশাসন অভিযুক্ত উচ্চবর্ণ ঠাকুরদের আড়াল করতে চাইছে এবং তাই মনীষার দেহ মাঝরাতে ফাঁকা মাঠে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু এবার উত্তরপ্রদেশ পুলিশ সামনে আনল চাঞ্চল্যকর তথ্য। তাদের দাবি হাথরাস কান্ড আসলে ধর্ষণ নয় কারণ তরুণীর শরীরে কোন ধর্ষণের চিহ্ন মেলেনি, ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও নাকি লেখা নেই এই কথা। আবার এই একই কথা বলা হয়েছে FSL-এর রিপোর্টেও। উত্তর প্রদেশে পুলিশের দাবি মনীষার সঙ্গে অভিযুক্তর এর আগে ১০৪ বার কথা হয়েছে। অর্থাৎ এরা একে অপরকে আগে থেকেই চেনে।
যদিও বিরোধীরা উত্তর প্রদেশে পুলিশের এই যুক্তি শুনে যথারীতি ক্ষিপ্ত। তাদের স্পষ্ট দাবি যে এটি একটি ধর্ষণকাণ্ড তা দিনের আলোর মত পরিষ্কার।সেটিকে চাপা দেওয়ার নির্লজ্জ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও প্রশাসন।
আবার উত্তরপ্রদেশ সরকার সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছিল, তারা মনীষা বাল্মীকির দেহ মাঝরাতে পুড়িয়ে দিয়েছিল কারণ পরবর্তীকালে তা সামনে এলে উত্তরপ্রদেশে নাকি দাঙ্গা বাঁধতে পারত! নির্যাতিতা তরুণী শরীরে কোনো রকমের ধর্ষণের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। তাই উত্তর প্রদেশকে ইচ্ছাকৃত বদনাম করতে চাইছে বিরোধীরা।
আর এইবার উত্তরপ্রদেশ পুলিশ এর বক্তব্য নির্যাতিতা তরুণী এবং অভিযুক্ত আগে থেকে একে অপরকে চিনত। এখানে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গিয়েছে গোটা দেশ। সত্যিই কি মনীষাকে আগে থেকেই চিনত অভিযুক্ত? কারণ পূর্বপরিচিত যদি এত নৃশংস ঘটনা ঘটায় তাহলে তার নারীদের সুরক্ষার জন্য মারাত্মক বিষয়! আবার অনেকেরই সন্দেহ উত্তরপ্রদেশ পুলিশ নিজের মুখ ঢাকার জন্য এবং উচ্চবর্ণের হিন্দুদের বাঁচাবার জন্য মিথ্যা গুলো কে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।পরবর্তীকালে এই ঘটনা কোন দিকে মোড় নেয় তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে গোটা দেশ।





