‘হোটেল নয়, পার্কেই দুষ্টুমি’!দায়িত্ব নেওয়া মাত্রই অগ্নিকন্যা পার্কে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ দিলীপ মজুমদারের—২০০ টাকায় শোয়ার চেয়ার, ফলস বিলের আড়ালে ২২ কোটি টাকার তছরুপ?

শহরের ফুসফুস বলা হয় পার্ককে। পরিবার, শিশু, প্রবীণ—সবার জন্য একটু স্বস্তির জায়গা। কিন্তু সেই জায়গা ঘিরেই যদি ওঠে অস্বস্তিকর অভিযোগ, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে যায়। বনগাঁ পুরসভার অগ্নিকন্যা পার্ককে ঘিরে ঠিক তেমনই এক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা এখন শুধুই পার্কের সীমায় আটকে নেই—রাজনৈতিক তরজার ময়দানেও ছড়িয়ে পড়েছে।

দীর্ঘ টালবাহানার পর সম্প্রতি বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তন হয়। প্রাক্তন চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ ইস্তফা দেওয়ার পর দায়িত্ব নেন দিলীপ মজুমদার। সোমবার চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ শুরুর প্রথম দিনেই কাউন্সিলরদের নিয়ে অগ্নিকন্যা পার্ক পরিদর্শনে যান তিনি। সামনেই বড়দিন, পার্কে ভিড় বাড়বে—এই ভাবনা থেকেই এই পরিদর্শন। কিন্তু সেখানে গিয়েই তিনি যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন, তা ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক।

বর্তমান চেয়ারম্যান দিলীপ মজুমদারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই অগ্নিকন্যা পার্কে অনৈতিক কার্যকলাপ চলছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পার্কের ভিতরে ২০০ টাকা করে শোয়ার চেয়ার ভাড়া দেওয়া হচ্ছিল, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক। শুধু তাই নয়, পার্ক চত্বরে আপত্তিকর জিনিসপত্র পড়ে থাকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি জানান, পার্কের একাধিক ইভেন্ট ও পরিকাঠামো দীর্ঘদিন ধরে বিকল অবস্থায় পড়ে রয়েছে, অথচ সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের নামে ফলস বিল দেখিয়ে প্রায় ২২ কোটি টাকা তছরুপ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দাবি, প্রাক্তন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ সাতজনকে নিয়ে একটি র‍্যাকেট এই কাজ করেছে। গোটা বিষয়টি তদন্তের আশ্বাসও দেন তিনি।

তবে এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ। তাঁর সাফ বক্তব্য, পুরসভার কোনও কাজ একার সিদ্ধান্তে হয় না—ইঞ্জিনিয়ার, অর্থ দপ্তর, একাধিক স্তরের অনুমতি লাগে। সব কাজই স্বচ্ছতার সঙ্গে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। গোপাল শেঠ আরও বলেন, ২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আর্থিক বিষয় খতিয়ে দেখার জন্য তিনি নিজেই তদন্ত চেয়েছিলেন। তাঁর প্রশ্ন, এতদিন যদি সব ঠিকঠাক চলছিল, তাহলে হঠাৎ করে এই অনৈতিক কাজ কীভাবে শুরু হল? এই ঘটনার জন্য তিনি নাম না করে শাসক দলেরই অন্য গোষ্ঠীর দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন।

আরও পড়ুনঃ Parno Mittra : ‘বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল’- পার্ণো মিত্র! বরানগরের প্রাক্তন বিজেপি প্রার্থী এবার তৃণমূলে যোগ দিলেন!

এই পালটা অভিযোগ-পালটা দাবির মাঝেই রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিজেপি কাউন্সিলর দেবদাস মণ্ডলের বক্তব্য, বর্তমান ও প্রাক্তন—দু’জন চেয়ারম্যানই তৃণমূলের। প্রকাশ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই সামনে এসেছে। তবে দুর্নীতির অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়াই উচিত বলে মত তাঁর। এখন দেখার, অগ্নিকন্যা পার্কের এই অভিযোগ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, আর তদন্তে কী উঠে আসে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles