বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ফের নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, “বাংলাদেশ কার্যত এখন পাকিস্তানি প্রভাবের অধীনে চলছে।” সম্প্রতি এক আলোচনায় তিনি অভিযোগ করেন, দেশটিতে মৌলবাদী শক্তির দাপট দ্রুত বাড়ছে, আর বিশ্ব পরিবার যদি আগামী ছ’মাসও নীরব থাকে, তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি পাকিস্তানের দিকে ফিরে যেতে পারে।
শুভেন্দুর দাবি, বাংলাদেশের পাকিস্তান রাষ্ট্রদূত নিজের দপ্তরে না থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং সরাসরি প্রশাসনিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেন। তাঁর কথায়, “জামাতের দফতরে প্রতিদিন পাকিস্তানি দূত যাতায়াত করছেন। এই ভয়ঙ্কর সংযোগই আজকের বাংলাদেশের মূল সংকট।” তিনি আরও জানান, বিএনপি, আওয়ামী লীগ বা জাতীয় পার্টি—সব দলকেই এখন কার্যত কোণঠাসা করা হয়েছে। যারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ধারক বা সমর্থক ছিলেন, তাঁদের প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে ধীরে ধীরে মুছে ফেলার কাজ চলছে। তিনি জানান, “বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমান বা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূর্তি প্রায় কোথাও নেই। এমনকি গান্ধীজি যেখানে গিয়েছিলেন, সেই চট্টগ্রামের স্মারকও ভেঙে ফেলা হয়েছে।” তাঁর আরও অভিযোগ, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নামে যে লাইব্রেরি ছিল, সেটিও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বর্ডার গার্ড থেকে শুরু করে শিক্ষা দপ্তর, সরকারি কমিটি পর্যন্ত—সব জায়গায় মুক্তিযুদ্ধ সমর্থকদের সরিয়ে দিয়ে জামাত-ঘনিষ্ঠ মানুষদের বসানো হচ্ছে। তাঁর মতে, “এই পরিকল্পনা খুব সুচারুভাবে চলছে, যাতে নিচের স্তর থেকে সংসদ পর্যন্ত পাকিস্তানি প্রভাব বিস্তার করা যায়।”
আরও পড়ুনঃ Delhi bla*st: ৬ ডিসেম্বরের জন্য বাবরি মসজিদের ‘বদলার’ ছক ফাঁস দিল্লিতে সিরিয়াল ব্লাস্টের পরিকল্পনা!
সবশেষে শুভেন্দুর মন্তব্যে উঠে আসে সবচেয়ে উদ্বেগজনক আশঙ্কা—“একদিন সকালে হয়তো বাংলাদেশের সংসদ ঘোষণা করবে যে, বিভাজনটা ভুল ছিল, আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হতে চাই।” তাঁর বক্তব্যে উদ্বেগ স্পষ্ট—“এই শক্তিকে এখনই থামানো না গেলে, পুরো অঞ্চলেই অশান্তি নেমে আসবে।”






