বিহারে ভোটগণনার কাউন্টডাউন শুরু হতেই রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে দুশ্চিন্তা। বুথে ভোটগ্রহণ শেষ হলেও শেষ মুহূর্তে কোন দিকে মোড় নেবে ফল—তা নিয়ে প্রবল জল্পনা। এর মধ্যেই অস্বাভাবিক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে এক মন্তব্য। ভোটের আগে ঝড় ওঠা নতুন রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব যেন বিহারের রাস্তাঘাটেও আঁচ ফেলতে শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে আরজেডির প্রবীণ নেতা এবং বিহার বিধান পরিষদের সদস্য সুনীল সিংহ অভিযোগ তোলেন যে, আগের নির্বাচনেও ভোটগণনা নিয়ে ‘অস্বচ্ছ আচরণ’ দেখা গিয়েছিল। তাঁর দাবি, ২০২০ সালে চার ঘণ্টা গণনা বন্ধ থাকার পর থেকেই মানুষের মধ্যে আস্থা কমেছে। আর তাই এ বার ফল ঘোষণার সময় সামান্য কারচুপির গন্ধ পেলেও রাজ্যে বিরাট অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা।
এর পর হুঁশিয়ারি আরও তীব্র করেন সুনীল। তিনি বলেন, যদি কোনও ভাবে ভোটগণনায় কারচুপি ধরা পড়ে, তবে বিহার নেপালের মতো গণআন্দোলনের পথে হাঁটবে। শুধু নেপাল নয়—বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার নাগরিক আন্দোলনের উদাহরণ টেনে তিনি ইঙ্গিত দেন, সরকার বিরোধী ক্ষোভ দমিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে। তাঁর কথায়, “মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে। সেই পরিস্থিতি থামানো অসাধ্য হয়ে যাবে যদি স্বচ্ছতা না থাকে।”
এই বিস্ফোরক মন্তব্যের জেরে নড়েচড়ে বসে পাটনা পুলিশ। সাংবাদিক বৈঠক শেষ হওয়ার পরেই সাইবার সেল দ্রুত পদক্ষেপ করে আরজেডি নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। পাটনা জেলার সাইবার সেলের ডিএসপি নীতিশচন্দ্র ধরিয়া জানান, সুনীল সিংহের মন্তব্য উত্তেজনা বাড়ানোর মতো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিপজ্জনক দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তাই তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Suvendu Adhikari : ছ’মাসে ফের পাকিস্তান হতে পারে বাংলাদেশ! শুভেন্দুর চাঞ্চল্যকর অভিযোগে তোলপাড় রাজনীতি!
এখন নজর ফলাফলের দিনে। জোর হুঁশিয়ারি, পুলিশের পাল্টা মামলা—সব মিলিয়ে বিহারের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও তপ্ত। ভোটগণনার কয়েক ঘণ্টা আগেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যে উত্তেজনা কোথায় গিয়ে থামবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ইতিমধ্যেই পরিষ্কার—ফল বের হওয়ার আগেই বিহার রাজনীতি তার নিজের মতো করেই ঝড় তুলতে শুরু করেছে।





