একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। সেখান থেকেই সূত্রপাত এক বড়সড় রাজনৈতিক বিতর্কের। কলকাতার আনন্দপুর এলাকার বাসিন্দা শর্মিষ্ঠা পানোলির একটি মন্তব্য ঘিরে হঠাৎই ক্ষোভ উগরে দেয় সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশ। অভিযোগ ওঠে, একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করেই তিনি আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেছেন। শুরু হয় শোরগোল, ঝড় ওঠে নেটপাড়ায়। এরপরেই গার্ডেনরিচ থানায় দায়ের হয় অভিযোগপত্র।
অভিযোগ দায়ের হওয়ার কিছুদিন পরেই, হরিয়ানার গুরুগ্রাম এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শর্মিষ্ঠাকে। কলকাতা পুলিশের এই পদক্ষেপ ঘিরেই শুরু হয় আরও এক দফা বিতর্ক। এই গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে নানা মহল থেকে উঠে আসছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগ। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, এই পদক্ষেপ শুধুই আইন রক্ষার্থে নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক অভিসন্ধি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এই বিষয় নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও বিস্তারিত বিবৃতি মেলেনি।
ঘটনার পর থেকেই শর্মিষ্ঠার পাশে দাঁড়াতে দেখা গিয়েছে একাধিক জনপ্রিয় মুখকে। অভিনেতা তথা রাজনৈতিক নেতা পবণ কল্যাণ, বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রনৌত শর্মিষ্ঠার গ্রেপ্তারিকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে দাবি করেছেন। শুধু দেশেই নয়, বিদেশ থেকেও এই গ্রেপ্তারির সমালোচনা হয়েছে বলে খবর। নেদারল্যান্ডসের রাজনীতিবিদ গ্রিট ওয়াইল্ডার্স টুইট করে শর্মিষ্ঠার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, শুধুমাত্র মতপ্রকাশের অধিকার প্রয়োগ করায় কাউকে জেলে পাঠানো লজ্জাজনক।
রবিবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান মননকুমার মিশ্র। এক বিবৃতিতে তিনি লেখেন, শর্মিষ্ঠার পোস্ট করা ভিডিয়োটি পরে তিনি নিজেই মুছে ফেলেছিলেন ও ক্ষমাও চেয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও তাঁকে গ্রেপ্তার ও জেল হেফাজতে পাঠানো ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। তাঁর মতে, এই ঘটনা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর এক সরাসরি আঘাত। পাশাপাশি তিনি এও প্রশ্ন তুলেছেন, অন্যান্য সম্প্রদায়ের দ্বারা সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনায় প্রশাসন কেন নীরব ভূমিকা নেয়?
আরও পড়ুনঃ Sharmistha Panoli Arrest Controversy: শর্মিষ্ঠা বিতর্কে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া, কঙ্গনা-শুভেন্দু সরব, পুলিশের পদক্ষেপ কিরে তীব্র বিতর্ক জনগণের!
বার কাউন্সিল চেয়ারম্যান ছাড়াও বেশ কয়েকজন রাজ্যসভার সাংসদ এই গ্রেপ্তারিকে দুর্ভাগ্যজনক বলেও মন্তব্য করেছেন। তাদের বক্তব্য, মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় উস্কানির মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করা জরুরি। রাজনৈতিক মহলের দাবি, সরকারের একপক্ষীয় পদক্ষেপের জেরেই এক নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, আর অন্যদিকে বহু ঘটনাকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। যদিও সরকারি স্তরে এই সমস্ত মন্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, তবে শর্মিষ্ঠার মুক্তির দাবি জোরদার হয়েছে। বিষয়টি যে সহজে থামছে না, তা স্পষ্ট।





“আগে হিন্দু, তারপর বাঙালি…যে রক্ষা আমাদের রক্ষা করবে, আমি তাদের দলে” “আমি হিন্দুস্থান চাই” বাংলায় পদ্মফুলের উত্থানেই খুশি অভিজিৎ ভট্টাচার্য! বিজেপির সাফল্যের পর খুললেন মুখ! গায়কের মন্তব্যে তোলপাড় নেটদুনিয়া!