অপারেশন সিঁদুরের পর এক আইনের ছাত্রীর একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ঘিরে রাজ্যে তৈরি হয়েছে বিতর্কের ঝড়। অভিযোগ, পোস্টে ব্যবহৃত কিছু শব্দ ও ভাবনা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে—এই দাবি তুলে বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। এরপরই গ্রেফতার হন ওই ছাত্রী। বিষয়টি রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে, যার জেরে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা।
আইনের ছাত্রী শর্মিষ্ঠা পানোলিকে গ্রেফতারের পর এই ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের একাংশের দাবি, ক্ষমা চাওয়ার পরেও কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হল, তা নিয়ে পুলিশের ভূমিকায় স্বচ্ছতা নেই। আবার কিছু জনমত বলছে, একইরকম ধর্মীয় মন্তব্য করে অন্য রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রে তেমন কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সমাজমাধ্যমেও একাংশ পুলিশি পদক্ষেপকে ‘অতিসক্রিয়তা’ বলে অভিহিত করেছে।
এই পরিস্থিতিতে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কটাক্ষ করেছেন বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। অনেকে বলেছেন, “ক্ষমা চেয়ে নিলেও কেন একজন ছাত্রীকে হেনস্থা করা হল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা।” কেউ কেউ এটাও বলছেন, “ধর্মনিরপেক্ষতা যদি দেশের নীতি হয়, তবে তা সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হওয়া উচিত।” অন্যদিকে এক অভিনেত্রী ও সাংসদও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে জানিয়েছেন, “অল্পবয়সী অনেকেই ভুল করে থাকে, ক্ষমা চাওয়ার পরেও তাঁকে আটক রাখা অনুচিত।”
এই পরিস্থিতিতে অবশেষে কলকাতা পুলিশের তরফে একটি সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। পুলিশ জানায়, “গ্রেফতার সংক্রান্ত সমস্ত প্রক্রিয়া আইন মেনেই করা হয়েছে। একাধিকবার তাঁকে নোটিস দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবারই তিনি অধরা ছিলেন। এরপর আদালতের নির্দেশেই তাঁকে গুরুগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় আনা হয়।” পুলিশের দাবি, শর্মিষ্ঠা যেই ইনস্টাগ্রাম ভিডিওটি পোস্ট করেছিলেন, তা পরে মুছে ফেললেও ভিডিওর নিচে থাকা কমেন্টগুলিই প্রমাণ করে যে অধিকাংশ সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীর মুখে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠে গিয়েছিল, এবং ওই ভিডিও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করতে পারে—এই যুক্তি থেকেই আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Eid : রেড রোডে ঈদের নামায কি আর হচ্ছে না? অনিশ্চয়তার পর বড় সিদ্ধান্ত খিলাফত কমিটির!
অভিযোগের ভিত্তিতে গার্ডেনরিচ থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। এরপর কলকাতা পুলিশ শুক্রবার গুরুগ্রাম থেকে ওই ছাত্রীকে গ্রেফতার করে এবং শনিবার তাঁকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। বিচারক নির্দেশ দেন, ১৩ জুন পর্যন্ত তাঁকে জেল হেফাজতে রাখা হবে। গ্রেফতারের সময় ওই ছাত্রী আদালত প্রাঙ্গণে চিৎকার করে বলেন, “গণতন্ত্রে থেকেও এই হয়রানি! এটাকে গণতন্ত্র বলে না।” ঘটনাটি ঘিরে এখনও রাজ্য রাজনীতিতে চাপানউতোর অব্যাহত।





