নিউ টাউনের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিলার রহস্যময় মৃত্যুর ঘটনা এখনও রাজ্যবাসীর মনে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। প্রথমদিকে সাধারণ অপহরণের ঘটনা মনে হলেও, তদন্ত যত এগোচ্ছে, রহস্য ক্রমেই গভীর হচ্ছে। স্বপনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে বিধাননগর কমিশনারেটের গোয়েন্দারা।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, স্বপনকে প্রথমে অপহরণ করা হয় এবং তারপর নিউ টাউনের একটি ফ্ল্যাটে তার ওপর ভয়ঙ্কর অত্যাচার চালানো হয়। এই সময়ে নিহত ব্যবসায়ী প্রাণ হারান। ঘটনার আরও বিস্ময়কর দিক হল, ব্যবসায়ীর দেহ লোপাট করার সময় সরকারি নীল বাতি বসানো গাড়িতে ছিলেন জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মন। পুলিশ সূত্রের দাবি, ধৃতদের বক্তব্য এবং জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্রকাশিত তথ্যই এই তথ্যের প্রমাণ দিচ্ছে।
গোয়েন্দাদের একাংশের তথ্য অনুযায়ী, বিডিও-র গাড়ির চালক রাজু ঢালি এবং ঠিকাদার বন্ধু তুফান থাপা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, তারা সহায়তা করেছিলেন দেহ লোপাটে। এছাড়াও, নিউ টাউনের ফ্ল্যাটের কেয়ারটেকার অশোক করের স্বীকারোক্তির সঙ্গে ধৃত তুফান ও রাজুর বক্তব্য সম্পূর্ণ মিল রয়েছে। অর্থাৎ, হত্যাকাণ্ডে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির সরাসরি থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, স্বপনকে মারধরের সময় বিডিও নিজে ফ্ল্যাটে উপস্থিত ছিলেন। তিনি শুধুমাত্র চড়-থাপ্পড় মারেননি, স্বপনকে লাথিও মেরেছেন। গোয়েন্দাদের দাবি, যদিও ধৃতরা বলেছেন, হত্যার উদ্দেশ্য ছিল না, মূল উদ্দেশ্য ছিল বাড়ি থেকে চুরি হওয়া সোনার গয়না উদ্ধার করা। স্বপনের আশ্বাস সত্ত্বেও, বিডিও প্রশান্ত তাকে রেহাই দেননি।
আরও পড়ুনঃ Delhi 10/11 bl*ast : দু’বছর ধরে বিস্ফোরক সঞ্চয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার পরিকল্পনা ফাঁস! ধৃত শাহিনের জেরায় নতুন তথ্য!
এভাবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের মামলায় প্রশান্তের নাম ক্রমেই জড়াচ্ছে। পুলিশ এবং গোয়েন্দা দল ধৃতদের পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে, যাতে সম্পূর্ণ সত্য উদঘাটন করা যায়। এই খুন কাণ্ড রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং সাধারণ মানুষও উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনাটির প্রতিটি তথ্য খুঁজে দেখছে।





