নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক নানা প্রক্রিয়া ঘিরে সাধারণ মানুষের কৌতূহল ও উৎকণ্ঠা নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে যখন সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নাগরিক অধিকার, তখন সামান্য অসন্তোষও দ্রুত বড় আকার নিতে পারে। বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের ফারাক্কায় এমনই এক প্রশাসনিক শুনানিকে কেন্দ্র করে আচমকা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা ধীরে ধীরে রূপ নেয় তুমুল বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের পরিস্থিতিতে। একই দিনে মালদায় সামনে আসে আর এক উদ্বেগজনক ছবি, যা প্রশাসনিক কাজের চাপ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
ফারাক্কা ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের কার্যালয়ে এদিন চলছিল এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত শুনানি। শুরুতে সব কিছু স্বাভাবিক থাকলেও, শুনানির মাঝেই অভিযোগ ওঠে—কিছু ক্ষেত্রে ধর্মের ভিত্তিতে পক্ষপাত করা হচ্ছে। এই অভিযোগ ঘিরেই উপস্থিত মানুষজনের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। একাংশ দাবি করেন, ডেকে এনে ভোটারদের হয়রানি করা হচ্ছে এবং অভিযোগ শোনার বদলে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিডিও অফিস চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেস।
উত্তেজনা এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, হেয়ারিং কক্ষ সংলগ্ন এলাকায় টেবিল-চেয়ার ভাঙচুর হয় বলে অভিযোগ। ক্যাম্পে উপস্থিত আধিকারিকদের মারধরের ঘটনাও সামনে আসে। ঘটনাস্থলে পৌঁছন ফারাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলাম। তিনি প্রকাশ্যে প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, “ধর্ম দেখে দেখে হেয়ারিং করা হচ্ছে—এই সংক্রান্ত অভিযোগ আমার কাছে রয়েছে। সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করে কোনও সিদ্ধান্ত মানা হবে না।” তাঁর বক্তব্যের পর বিক্ষোভ আরও তীব্র হয় এবং সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় শুনানি পর্ব।
আরও পড়ুনঃ IPAC ED Raid :“প্রতীকের বাড়ি থেকে ইডি কিছুই নেওয়া নেয়নি, যা নিয়েছেন তা মমতাই”—হাইকোর্টে বিস্ফোরক দাবি ইডির!
পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ ও কমব্যাট ফোর্স। বিডিও অফিসের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয় কিছু সময়ের জন্য। যদিও এই ঘটনার বিষয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। বিধায়ক ও বিক্ষোভকারীদের দাবি, যতক্ষণ না নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে শুনানি হবে, ততক্ষণ আন্দোলন চলবে। গোটা ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।





