IPAC ED Raid :“প্রতীকের বাড়ি থেকে ইডি কিছুই নেওয়া নেয়নি, যা নিয়েছেন তা মমতাই”—হাইকোর্টে বিস্ফোরক দাবি ইডির!

কলকাতার রাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে ইডি ও আইপ্যাক। সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার একাধিক পদক্ষেপ ঘিরে যেমন প্রশ্ন উঠছে, তেমনই পাল্টা রাজনৈতিক চাপানউতোরও বাড়ছে। সেই আবহেই কলকাতা হাইকোর্টে চলা একটি মামলার শুনানি নতুন মোড় নিল। প্রথম দেখায় যা নিছক আইনি বিতর্ক বলে মনে হলেও, ভিতরে ভিতরে রয়েছে রাজনৈতিক ডেটা, তদন্তের সীমা ও ক্ষমতার প্রশ্ন—যা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক মহল সর্বত্র।

আইপ্যাক সংক্রান্ত ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের দায়ের করা মামলাটি কলকাতা হাইকোর্টে টিকল না। মামলাটি খারিজ হয়ে যায় ইডির এক স্পষ্ট বক্তব্যের পর। আদালতে ইডির তরফে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু অন রেকর্ড জানান, আইপ্যাকের ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের ফ্ল্যাট বা সল্টলেকের অফিস থেকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট কোনও নথি বা ডিজিটাল তথ্য বাজেয়াপ্ত করেনি। তাঁর দাবি, যে কাগজপত্র নিয়ে এত বিতর্ক, তা ইডি নয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই সেখান থেকে নিয়েছিলেন।

ইডির এই বক্তব্য সামনে আসতেই তৃণমূলের আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামী আদালতে জানান, যদি ইডি স্বীকার করে নেয় যে তারা কোনও নথি বাজেয়াপ্ত করেনি, তাহলে এই মামলার আর কোনও ভিত্তি থাকে না। সেই সূত্র ধরেই মামলাটি ডিসপোজ করার আবেদন ওঠে। শুনানিতে ইডির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, একই ধরনের বিষয় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তাই সেই শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার আর অগ্রগতি হওয়া উচিত নয়। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ এই যুক্তি মেনে নিয়ে হাইকোর্টের শুনানি মুলতবি করেন।

প্রসঙ্গত, প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডি-র তল্লাশির দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রীর হাতে একটি সবুজ ফাইল দেখা যাওয়ায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়। তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে এরপরই ইডি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেসও মামলায় আবেদন জানিয়ে দাবি করে, তল্লাশিতে বাজেয়াপ্ত হওয়া নথি আসলে দলের গোপনীয় রাজনৈতিক ডেটা, যার সুরক্ষা জরুরি।

আরও পড়ুনঃ Suvendu Adhikari On Mamata Banerjee: মানহানির নোটিসে জবাব নেই, এবার আদালতের হুঁশিয়ারি! মমতার বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি যুদ্ধে শুভেন্দু!

তবে ইডির সাফ বক্তব্য—তারা কিছুই বাজেয়াপ্ত করেনি—এই যুক্তিতেই তৃণমূলের আবেদন কার্যত গুরুত্ব হারায়। ইডির আইনজীবীরা আরও প্রশ্ন তোলেন, যদি কিছু নেওয়াই হয়ে থাকে, তাহলে মুখ্যমন্ত্রীকে মামলার পক্ষ করা হয়নি কেন, কিংবা প্রতীক জৈন নিজে কেন কোনও আবেদন করেননি। আপাতত এই মামলার কেন্দ্রবিন্দু সরে যাচ্ছে দিল্লিতে। আগামী ১৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে এই বিষয়েই শুনানি রয়েছে। সেই রায়ের দিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহল।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর