কলকাতার ব্যস্ত শহুরে জীবনে প্রতিদিনের ভিড়ের আড়ালেই ঘটে যায় এমন কিছু ঘটনা, যা প্রথমে নিছক দুর্ঘটনা বলেই মনে হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ঘটনাগুলিই নতুন করে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে। মুকুন্দপুরের অহল্যানগর এলাকাতেও ঠিক তেমনই এক মৃত্যুকে ঘিরে ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে রহস্য ও রাজনৈতিক তরজা। শুরুতে নীরব থাকলেও, এখন এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নানা দাবি-পাল্টা দাবিতে উত্তাল শহরের রাজনৈতিক মহল।
ঘটনাটি কলকাতা পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের মুকুন্দপুর এলাকায়। বৃহস্পতিবার সকালে নিজের বাড়ির বাথরুম থেকে উদ্ধার হয় এক ব্লক লেভেল অফিসার বা বিএলও-র ঝুলন্ত দেহ। পুলিশের দাবি, মৃতের নাম অশোক দাস, বয়স ৪৭ বছর। অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর ছড়াতেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার কথাই সামনে এলেও, ঘটনার পেছনে অন্য কোনও চাপ বা প্ররোচনা ছিল কি না, তা নিয়ে শুরু হয় প্রশ্ন।
ঘটনার মোড় ঘোরে মৃতের স্ত্রীর একটি অডিয়ো ক্লিপ সামনে আসার পর। সেই কথোপকথনে তিনি দাবি করেন, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজু দীর্ঘদিন ধরে অশোক দাসকে হুমকি দিচ্ছিলেন। তাঁর দাবি, লাগাতার চাপ ও ভয়ের কারণেই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁর স্বামী। এই অডিয়ো ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ে।
এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়ায় বিজেপি। যাদবপুর জেলা বিজেপির সম্পাদক মৌসুমী দাস অভিযোগ করেন, কাউন্সিলরের তরফে লোক লাগিয়ে বিএলও-র উপর চাপ তৈরি করা হচ্ছিল। যদিও তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। তাঁর দাবি, ওয়ার্ডে বহু বিএলও কাজ করেন এবং কাউকে আলাদা করে চাপ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
আরও পড়ুনঃ IPAC Raid Case: রাজ্য বনাম কেন্দ্রীয় সংস্থা সংঘাত সুপ্রিম কোর্টে, আইপ্যাক মামলায় আপাতত স্বস্তি ED-র, প্রশ্নের মুখে রাজ্য সরকার!
এদিকে তৃণমূল বিধায়ক দেবব্রত মজুমদার ঘটনার দায় কেন্দ্রের নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ার উপর চাপিয়ে দেন। তাঁর বক্তব্য, অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তই বিএলও-দের উপর মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে, মৃতের দাদা তাপস দাস স্বীকার করেছেন, মানসিক চাপ ছিল ঠিকই, কিন্তু এমন পরিণতি হবে তা তাঁরা ভাবতে পারেননি। সব মিলিয়ে প্রশ্ন একটাই—এই মৃত্যু নিছক আত্মহত্যা, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অদৃশ্য চাপের অন্ধকার গল্প? উত্তর খুঁজছে তদন্ত।





