“রাজ্য দ্বারা পরিচালিত লুটপাট” — রাজ্য সরকারের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির বাড়ির জন্যই ৪২ বার ক্ষতিপূরণ! CAG রিপোর্টের ভিত্তিতে মালদা বন্যাত্রাণে ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে মমতা সরকারকে তীব্র আক্র*মণ বিজেপির!

মালদার আগস্ট ২০১৭ সালের বন্যা এখনও স্মৃতিতে তাজা। সেই সময় হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছিল, জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষরা বন্যার পরে সরকারের থেকে আর্থিক সাহায্যের আশা করেছিল। কিন্তু যা প্রকাশ পাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে সেই সহায়তা তাদের কাছে পৌঁছায়নি। বরঞ্চ দুর্নীতির জাল বুনে অনেকে লাভবান হয়েছে, আর সাধারণ মানুষ এখনও স্বাভাবিকভাবে ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায়।

বিজেপি অভিযোগ করেছে, প্রায় ১০০ কোটি টাকার বন্যা ক্ষতিপূরণে গুরুতর অনিয়ম হয়েছে। হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকে এক ব্যক্তি একাধিকবার—কোনো ক্ষেত্রে ৪২ বার পর্যন্ত—একই বাড়ির জন্য ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, ১,৬০৯টি পাকা বাড়ি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, তবু প্রায় ৭.৫ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এই তথ্য ক্যাগ (CAG) রিপোর্টে উঠে এসেছে এবং তা বর্তমানে কলকাতা হাইকোর্টে বিচারাধীন।

ক্যাগ রিপোর্টে আরও উঠে এসেছে, সরকারি কর্মচারী ও স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা অবৈধভাবে ক্ষতিপূরণ নিয়েছেন। ১০৮ জনের মধ্যে ৩৬ জন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য এবং ৭২ জন গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য ছিলেন, যারা নিয়মিত বেতন পাচ্ছিলেন এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ছিলেন না। এমনকি প্রায় ৭ কোটি টাকা এমন ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছেছে, যারা ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদনও করেননি।

প্রত্যেক ব্লকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আগে চার সদস্যের যাচাই কমিটি থাকা আবশ্যক, কিন্তু এই নিয়ম তেমন মানা হয়নি। মানিকচক, ওল্ড মালদা, ইংলিশ বাজার, কালিয়াচক-১ ও রতুয়া-১ ব্লকে বন্যা ক্ষতিপূরণ বিতরণ হয়েছিল জেলাশাসকের বা বিরোধী দলের অনুমোদন ছাড়াই। পাশাপাশি, কাগজপত্র চাওয়া হলে, অফিসিয়ালি দাবি করেছেন যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি “হারিয়ে গেছে”, যা ইঙ্গিত দেয় যে প্রমাণ চাইলেই পাওয়া যাবে না।

আরও পড়ুনঃ I- PAC Raid: ইডি অভিযান হতেই দিল্লিতে বিক্ষোভ, ভোটের মুখে শাহের দফতর ঘিরে তৃণমূলের হইচই, তদন্তে প্রভাব ফেলতেই কি এই অশান্তি?

বিজেপি এটিকে “রাজ্য দ্বারা পরিচালিত লুটপাট” বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, এই দুর্নীতি রাজনীতির জন্য ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে বন্যা তহবিল রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে ব্যবহৃত হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বিষয়টি নিয়ে এখনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে আদালতের বিচার ও আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মানুষের ভোটই শেষ রায় হবে। সাধারণ মানুষ ক্ষতিপূরণের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছে, আর এই কেলেঙ্কারির ঘটনা পুরো রাজ্যকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles