I- PAC Raid: ইডি অভিযান হতেই দিল্লিতে বিক্ষোভ, ভোটের মুখে শাহের দফতর ঘিরে তৃণমূলের হইচই, তদন্তে প্রভাব ফেলতেই কি এই অশান্তি?

কলকাতায় ইডির তল্লাশি ঘিরে যে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে, তার রেশ এবার স্পষ্টভাবে ছড়িয়ে পড়ল দেশের রাজধানীতেও। শীতের সকালে দিল্লির রাজপথে হঠাৎ করেই বাড়তে শুরু করে রাজনৈতিক উত্তেজনা। একদিকে কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযান, অন্যদিকে রাজ্যের শাসক দলের তীব্র প্রতিবাদ—এই দুইয়ের সংঘাতে শুক্রবার সকালে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনৈতিক পরিস্থিতি।

বৃহস্পতিবার কলকাতায় ইডি তল্লাশির ঘটনার প্রতিবাদেই এদিন দিল্লিতে পথে নামে তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভা ভোটের আগে বাংলার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘প্রতিহিংসামূলক আচরণ’-এর অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তৃণমূলের একাধিক সাংসদ। হাতে প্ল্যাকার্ড ও পোস্টার নিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মাধ্যমেই নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে চেয়েছিলেন তাঁরা।

কিন্তু সেই বিক্ষোভ বেশিক্ষণ নির্বিঘ্নে চলেনি। শাহের দফতরের বাইরে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূল সাংসদদের অভিযোগ, কোনওরকম আলোচনা বা সতর্কতা ছাড়াই পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। ডেরেক ও’ ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র, শতাব্দী রায়, কীর্তি আজাদ, সাকেত গোখলে-সহ মোট আটজন তৃণমূল সাংসদকে জোর করে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের চ্যাংদোলা করে টেনে হিঁচড়ে ভ্যানে তোলা হয়।

এই ঘটনার ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই ভিডিও ঘিরেই নতুন করে শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূলের দাবি, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ West Bengal : ইডি অভিযান চলছেই আই-প্যাকে, মুখ্যমন্ত্রী বেরোনোর পর স্ত্রী–সন্তান নিয়ে অফিসে হাজির প্রতীক জৈন!

তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে ব্যাখ্যা করেছে। দলের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে প্রথমে বাংলায় অভিযান, তারপর দিল্লিতে প্রতিবাদ দমন—সব মিলিয়ে একটি পরিকল্পিত চাপ তৈরির চেষ্টা চলছে। ইডি অভিযানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া কলকাতার রাজনৈতিক টানাপড়েন যে এবার দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে, তা আর অস্বীকার করার জায়গা নেই।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles