উত্তরবঙ্গের নাগরাকাটায় সোমবার দুপুরে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজনীতি ও সাধারণ মানুষ—বিজেপির সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ হামলার মুখে পড়ে আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রের খবর, বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন দুই নেতা। সেখানেই তাঁদের যাত্রাপথ বাধা পায় দুষ্কৃতীদের হাতে। ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। কারা এই হামলার পিছনে, তা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক এখন তুঙ্গে।
অভিযোগ, সাংসদ ও বিধায়ক তাঁদের গাড়িতে চেপে যাচ্ছিলেন, আচমকাই কিছু মানুষ রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে ইট-পাথর ছুড়তে শুরু করে। মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গাড়ির কাচ ভেঙে যায়, ভেতরে থাকা খগেন মুর্মুর মুখে আঘাত লাগে। রক্তে ভিজে যায় তাঁর জামা। শঙ্কর ঘোষ দাবি করেছেন, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে উপস্থিত কেন্দ্রীয় বাহিনীও মুহূর্তে সামাল দিতে পারেনি।
শঙ্কর ঘোষের শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, রক্তাক্ত অবস্থায় গাড়ির আসনে বসে আছেন খগেন মুর্মু, চারপাশে ভাঙা কাচ ছড়ানো। অভিযোগ, পিছন দিক থেকে দুষ্কৃতীরা তাঁদের মারধর করে, গাড়িতে ওঠার সময়ও হামলা চলে। প্রাণভয়ে নেতারা দ্রুত স্থান ত্যাগের চেষ্টা করেন। ঘটনাস্থল জলপাইগুড়ির নাগরাকাটা এলাকা, যা সম্প্রতি ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কবলে পড়েছে।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই হামলার সঙ্গে যুক্ত। বিজেপি নেতা নিশীথ প্রামাণিক বলেছেন, এখন দলমত নির্বিশেষে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গবাসীর পাশে থাকার সময়, অথচ সেই সুযোগে রাজনীতি হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, যে ধরনের আক্রমণ চালানো হয়েছে, তা প্রাণঘাতী। অপর দিকে, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ এই অভিযোগ নস্যাৎ করে জানান, তিনি এ ধরনের ঘটনার খবর পাননি এবং মনে করেন, সাধারণ মানুষের ক্ষোভে এই ঘটনা ঘটতে পারে।
আরও পড়ুনঃ Sex* racket: গেস্ট হাউসের আড়ালে মধু*চক্র! দত্তপুকুরে রাতভর বিক্ষোভে উত্তাল এলাকা!
ঘটনার পর রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিপর্যস্ত জনজীবনের মাঝেই এমন রাজনৈতিক হামলা ঘটায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। দুষ্কৃতীদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য জানতে তদন্তে নেমেছে প্রশাসন। তবে এই ঘটনার সূত্রে উত্তরবঙ্গের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। পাঠক চোখ রাখছেন, তদন্ত শেষে আদৌ আসল সত্য সামনে আসে কিনা।





